জুলাই সনদ কার্যকর এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সংসদের মাধ্যমে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। জোটের নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, সংসদে সমাধান না হলে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে দাবিগুলো আদায় করা হবে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে এ কথা বলেন জোটের নেতারা। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে নেতারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বিএনপি জুলাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে উপেক্ষা করছে। তারা বলেন, এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, ‘গণভোট অস্বীকার করা মানে ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অস্বীকার করা। যা সংসদে সমাধানযোগ্য, সেটি সংসদেই সমাধান করুন। সংসদের কথা রাজপথে আনা হলে জনগণের জন্য ফল সুখকর হবে না।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে বিএনপি তলে তলে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার করেছে। বিএনপির চেয়ারম্যান ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চেয়েছেন। ক্ষমতায় গিয়ে সেই গণভোটের রায়কেই অস্বীকার করছে বিএনপি।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, ‘সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকতে পারে; কিন্তু গণভোটের পক্ষের ৭০ শতাংশ মানুষ রাজপথে রয়েছে। গণভোটের রায় কার্যকর ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও কথা হবে।’
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ‘আমরা ভাবতে পারিনি বিএনপি এত দ্রুত গণভোট ও জুলাই সনদের সঙ্গে মোনাফেকি করবে।’
সমাবেশে নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মখলেসুর রহমান কাসেমী, জাগপা নেতা রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে শান্তিনগর এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
সিএ/এএ


