সাহাবি নুমান ইবনে মুকররিন ছিলেন ইসলামের একজন খ্যাতিমান সেনাপতি, যার উপনাম ছিল আবু আমর আল-মুজানি। তিনি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর পতাকাতলে থেকে একাধিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে অসাধারণ বীরত্বের পরিচয় দেন। খন্দকের যুদ্ধ ছিল তাঁর প্রথম যুদ্ধ, পরবর্তীতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বহু অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
মুজায়না গোত্রের এই সাহাবি ইসলাম গ্রহণের আগে থেকেই ইসলামের বার্তা সম্পর্কে অবগত ছিলেন। একসময় তিনি তাঁর গোত্রের সদস্যদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন নবীজির কাছে যাওয়ার। পরদিন তিনি তাঁর ১০ ভাই এবং প্রায় ৪০০ অশ্বারোহী যোদ্ধাসহ মদিনায় উপস্থিত হন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন। তাদের এই সম্মিলিত ইসলাম গ্রহণে মদিনায় আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
তিনি তাঁর কওমকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘হে আমার কওম, আল্লাহর শপথ, আমরা মুহাম্মদ সম্পর্কে কেবল ভালোই জেনেছি। তাঁর দাওয়াত কেবল রহমত, ইহসান ও ন্যায়ের কথা বলে। তবে কেন আমরা পিছিয়ে আছি, যেখানে অন্য মানুষ তাঁর দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে?’
ইসলাম গ্রহণের পর তিনি প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি নবীজিকে দেখেছি, তিনি যদি দিনের শুরুতে যুদ্ধ শুরু না করতেন, তবে সূর্য ঢলে পড়া (জোহর) পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন।’
খলিফা ওমর (রা.)-এর শাসনামলে পারস্যের বিরুদ্ধে অভিযানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কাদিসিয়ার যুদ্ধের আগে পারস্য সম্রাটের দরবারে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন তিনি। সেখানে তিনি ইসলামের দাওয়াত তুলে ধরেন এবং দৃঢ়তার সঙ্গে বক্তব্য প্রদান করেন।
পরবর্তীতে নাহাওয়ান্দের যুদ্ধে তিনি প্রধান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধকৌশলে দক্ষতা দেখিয়ে তিনি সৈন্যদের কৌশলগতভাবে পরিচালনা করেন। যুদ্ধ চলাকালে তিনি দোয়া করেন, ‘হে আল্লাহ, আপনি নুমানকে মুসলিমদের বিজয়ের মাধ্যমে শাহাদত নসিব করুন এবং তাদের বিজয় দান করুন।’
যুদ্ধের একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে তিনি শাহাদত বরণ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। ওমরকে এই সংবাদ লিখে পাঠাও।’ তাঁর শাহাদতের সংবাদে খলিফা ওমর (রা.) গভীরভাবে শোকাহত হন।
সিএ/এমআর


