ডিম বাঙালির প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রান্নায় ডিমের ব্যবহার খুবই সাধারণ। তবে বাজারে ডিম কিনতে গেলে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—সাদা ডিম ভালো, নাকি লাল ডিম বেশি পুষ্টিকর।
অনেকের ধারণা, লাল ডিমের দাম বেশি হওয়ায় এতে পুষ্টিগুণও বেশি। আবার কেউ মনে করেন, দুই ধরনের ডিমের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণার পেছনে যেমন কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে, তেমনি কিছু ভুল ধারণাও প্রচলিত আছে।
ডিমের খোলসের রঙ মূলত মুরগির জাত ও জিনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত সাদা পালকের মুরগি সাদা ডিম দেয় এবং গাঢ় রঙের পালকের মুরগি লাল বা বাদামি ডিম পাড়ে। ডিম তৈরির শেষ ধাপে একটি রঞ্জক পদার্থ যুক্ত হওয়ার ফলে খোলসের রঙ পরিবর্তিত হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, একটি ডিম সম্পূর্ণভাবে তৈরি হতে প্রায় ২৬ ঘণ্টা সময় লাগে। এই সময়ের মধ্যে কুসুম, সাদা অংশ এবং খোলস ধাপে ধাপে গঠিত হয়।
পুষ্টিগুণের দিক থেকে সাদা ও লাল ডিমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য নেই বলে পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন। উভয় ধরনের ডিমেই প্রায় সমপরিমাণ ক্যালোরি, ফ্যাট ও প্রোটিন থাকে।
তবে কিছু গবেষণায় লাল ডিমে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সামান্য বেশি থাকার কথা বলা হলেও এই পার্থক্য খুবই কম। তাই খাদ্যগুণের দিক থেকে দুটি ডিমই প্রায় সমান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের পুষ্টিগুণ নির্ভর করে মুরগির খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশের ওপর। যেসব মুরগিকে পুষ্টিকর খাদ্য দেওয়া হয় বা প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে, তাদের ডিমে ভিটামিন ও খনিজ উপাদান বেশি থাকতে পারে।
এছাড়া ডিমের কুসুমের রঙও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গাঢ় রঙের কুসুমে সাধারণত ভিটামিন এ ও ক্যারোটিনের পরিমাণ বেশি থাকে। তবে এটি নির্ভর করে মুরগির খাবারের ওপর।
সব মিলিয়ে, ডিমের খোলসের রঙ নয়, বরং মুরগির খাদ্য ও যত্নই ডিমের পুষ্টিগুণ নির্ধারণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সিএ/এমআর


