ইসলামের শুরুর দিকে, বিশেষ করে মক্কা জীবনে মুসলমানদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো উৎসব ছিল না। তখন তারা ছিল একটি নির্যাতিত সম্প্রদায়, যাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল ঈমান রক্ষা ও ইসলামের বার্তা প্রচার করা।
পরবর্তীতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরত করলে মুসলমানদের জন্য একটি সংগঠিত সমাজ গড়ে ওঠে। এখানেই ঈদের সূচনা হয় এবং এটি মুসলিম জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়।
মদিনায় এসে তিনি দেখতে পান, স্থানীয় মানুষ দুটি উৎসব—নওরোজ ও মেহেরজান—পালন করে। তখন তিনি ঘোষণা দেন, মুসলমানদের জন্য আল্লাহ এর চেয়েও উত্তম দুটি দিন নির্ধারণ করেছেন—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।
ঈদুল ফিতর রমজানের এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার দিন। অন্যদিকে ঈদুল আজহা আত্মত্যাগ ও আনুগত্যের শিক্ষা দেয়, যা হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর কোরবানির স্মরণে উদ্যাপিত হয়।
ঈদের নামাজ চালুর সময় নিয়ে কিছু মতভেদ থাকলেও অধিকাংশের মতে, এটি দ্বিতীয় হিজরিতে প্রবর্তিত হয়। মদিনার প্রথম ঈদ ছিল মুসলমানদের জন্য এক আবেগঘন অভিজ্ঞতা—দীর্ঘ নির্যাতনের পর স্বাধীনভাবে উৎসব পালনের সুযোগ।
ঈদের অন্যতম শিক্ষা হলো সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে নামাজ আদায় করে। পাশাপাশি সদকাতুল ফিতরের মাধ্যমে দরিদ্রদেরও আনন্দে শামিল করা হয়।
মহানবী (সা.) ঈদের দিনে মানুষের আনন্দকে গুরুত্ব দিতেন, বিশেষ করে শিশুদের। তিনি শালীনতার মধ্যে থেকে আনন্দ উদ্যাপনকে উৎসাহিত করেছেন।
আজকের জাঁকজমকপূর্ণ ঈদের তুলনায় প্রথম যুগের ঈদ ছিল অনেক সরল, কিন্তু তার আনন্দ ছিল গভীর ও আন্তরিক। এই ইতিহাস আমাদের শেখায়—ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য বাহ্যিকতায় নয়, বরং কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায়।
সিএ/এমআর


