সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় ফসল নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকেরা।
বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) জেলার বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অতিবৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে অনেক জমি ডুবে গেছে। এতে ধানগাছের গোড়ায় পানি জমে পচনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি শিলাবৃষ্টিতে গাছের ক্ষতিও হয়েছে।
সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কৃষক মনির উদ্দিন চার একর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, প্রথমে হালকা বৃষ্টি ফসলের জন্য উপকারী ছিল। কিন্তু কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে হাওরে পানি জমে গেছে। শিলাবৃষ্টিতে গাছের ক্ষতি হয়েছে। আরও বৃষ্টি হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
একই এলাকার আরেক কৃষক শামস উদ্দিন বলেন, জমে থাকা পানি খুব ঠান্ডা। এটি দীর্ঘ সময় থাকলে ধানগাছের গোড়া পচে যেতে পারে। শিলাবৃষ্টির প্রকৃত ক্ষতি কয়েক দিন পর বোঝা যাবে।
লালপুর গ্রামের কৃষক আবদুন নূর পাঁচ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সব হাওরেই ডুবরা (জলাবদ্ধতা) আছে। যদি আরও বেশি মেঘ (বৃষ্টি) অয়, তাইলে ক্ষতি বাড়ব। এখন ডর বন্যা লইয়া।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার সদর উপজেলার জোয়ারভাঙা ও কানলার হাওর, বিশ্বম্ভরপুরের করচার হাওর, শান্তিগঞ্জের খাই ও পাখিমারা হাওর, শাল্লার ছায়ার হাওর, জামালগঞ্জের হালির হাওর এবং তাহিরপুরের শনির হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও কৃষকেরা পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধ কেটে দিচ্ছেন।
‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, হাওরের কোথাও পানি জমে আছে, কোথাও আবার শুকনো। বাঁধের কাজ ভালোভাবে না হওয়ায় বৃষ্টিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে কৃষকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। ফসলের ক্ষতি হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। অপরিকল্পিত নির্মাণের কারণে অনেক হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। সব উপজেলাতেই শিলাবৃষ্টিতে ধানের ক্ষতি হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, এ বছর জেলায় দুই লাখ ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৭০ হেক্টর জমির ধান শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেসব হাওরে পানি নিষ্কাশনের সুযোগ রয়েছে, সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। বৃষ্টি থেমে রোদ উঠলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১২টি উপজেলায় ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ চলছে। তবে এখনো সব কাজ শেষ হয়নি।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, ‘আগামী এক সপ্তাহ বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। তবে ভারী বৃষ্টি কম হবে। আমরা বাঁধগুলো পর্যবেক্ষণে রাখছি। যেখানেই সমস্যা হচ্ছে, সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে হবে।’
সিএ/এমই


