তীব্র গরমে ফ্রিজের ব্যবহার দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠলেও এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিজ্ঞানীরা। প্রচলিত রেফ্রিজারেটরগুলোতে ব্যবহৃত গ্যাস ও প্রযুক্তি বৈশ্বিক উষ্ণায়নে ভূমিকা রাখছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞানীরা এমন একটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কথা জানিয়েছেন, যা পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে শীতলীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করতে পারে।
বর্তমানে ব্যবহৃত অধিকাংশ ফ্রিজ ভেপার কমপ্রেশন পদ্ধতিতে চলে, যেখানে বিশেষ রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এই গ্যাসগুলো, বিশেষ করে হাইড্রোফ্লুরোকার্বন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত। এই সমস্যার বিকল্প হিসেবে গবেষকেরা নিয়ে এসেছেন ‘আয়নোক্যালোরিক কুলিং’ নামের নতুন ধারণা।
এই প্রযুক্তি মূলত পদার্থের দশা পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। সাধারণভাবে বরফ গলার সময় আশপাশ থেকে তাপ শোষণ করে পরিবেশকে ঠান্ডা করে। একই নীতিকে ভিন্নভাবে প্রয়োগ করে আয়ন বা চার্জযুক্ত কণার সাহায্যে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে তাপমাত্রা বাড়ানো ছাড়াই পদার্থের গলন প্রক্রিয়া ঘটানো সম্ভব হয়, যা শীতলীকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা পরীক্ষাগারে এই পদ্ধতির সফল প্রয়োগ দেখিয়েছেন। তারা লবণজাতীয় উপাদান এবং ইথিলিন কার্বনেট ব্যবহার করে এমন একটি সিস্টেম তৈরি করেছেন, যা খুব কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তাপমাত্রা কমাতে সক্ষম। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এক ভোল্টেরও কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে প্রায় ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে।
গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি একদিকে যেমন শক্তি সাশ্রয়ী, তেমনি পরিবেশবান্ধব। একই সঙ্গে এটি নিরাপদ ও কম খরচে বাস্তবায়নযোগ্য হতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষতিকর রেফ্রিজারেন্ট গ্যাসের ব্যবহার কমানোর যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে গবেষণা পর্যায়ে থাকলেও বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার শুরু হতে পারে। তখন ঘরের প্রচলিত ফ্রিজের জায়গা নিতে পারে এই নতুন পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা।
সিএ/এমআর


