ভারতের লাদাখের পরিবেশকর্মী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুককে ছয় মাস কারাবাসের পর অবশেষে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (এনএসএ) আওতায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সোনম ওয়াংচুকের জীবন এবং কাজের সঙ্গে পরিচিতরা তাঁকে বলিউডের হিট সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর চরিত্র ‘র্যাঞ্ছো’র বাস্তব রূপ হিসেবে মনে করেন। সিনেমায় র্যাঞ্ছোকে তার বন্ধুরা অনেক খোঁজার পর ফিরে পায়, আর বাস্তবের র্যাঞ্ছোও ছয় মাস ধরে কারাগারের ছোট্ট ঘরে আটকে থাকার পর মুক্তি পাবেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে লাদাখে স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই ওয়াংচুকের আটকাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোনম ওয়াংচুক একটি বিজ্ঞানী, পরিবেশ রক্ষাকারী ও শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত। তিনি লাদাখের ভঙ্গুর বাস্তুসংস্থানের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে তিন দশক ধরে কাজ করছেন। ১৯৬৬ সালে লেহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ওয়াংচুক। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ালেখা শেষে তিনি স্টুডেন্টস এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অব লাদাখ (এসইসিএমওএল) প্রতিষ্ঠা করেন, যা ভারতের প্রথম সবুজ ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিত।
২০১৩ সালে ওয়াংচুক কৃত্রিম হিমবাহ উদ্ভাবন করেন, যা লাদাখে কৃষি ও পানি সংরক্ষণে সহায়ক হয়েছে। ২০১৮ সালে তিনি র্যামন ম্যাগসেসাই পুরস্কার পান। ২০২৪ সালে লাদাখের সাংবিধানিক সুরক্ষা ও খনিজশিল্পের প্রভাব রোধের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন। অনশন চলাকালীন একদল তরুণ সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে, পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হন। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো ভারতের সুপ্রিম কোর্টে মামলা চ্যালেঞ্জ করেন। সুপ্রিম কোর্ট ১৭ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করলেও তার আগে কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপে ওয়াংচুক মুক্তি পাবেন।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইন্ডিয়া টুডে
সিএ/এসএ


