রান্নার গ্যাসের সংকট বাড়তে থাকায় অনেকেই এখন বিকল্প হিসেবে ইন্ডাকশন ওভেন ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে একক বা ছোট পরিবারে রান্নার কাজে এই প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তবে সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে বিদ্যুৎ খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
বিভিন্ন অঞ্চলে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ সংকট দেখা দেওয়ায় অনেক পরিবার ইন্ডাকশন ওভেনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। সহজ ব্যবহার ও দ্রুত রান্নার সুবিধার কারণে ভাড়াবাড়ি বা মেসবাড়িতে বসবাসকারীদের কাছেও এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই মনে করেন ইন্ডাকশন ওভেন ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্রি-হিট করতে হয়। বাস্তবে ইন্ডাকশন খুব দ্রুত গরম হয়ে যায়, তাই অপ্রয়োজনে প্রি-হিট করলে বিদ্যুৎ অপচয় বাড়ে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাপমাত্রা নির্ধারণ করে সরাসরি রান্না শুরু করলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।
রান্নার পাত্র নির্বাচনও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর প্রভাব ফেলে। ইন্ডাকশন ওভেনের জন্য বিশেষ ধরনের পাত্র ব্যবহার করা হলে খাবার দ্রুত রান্না হয়। সাধারণত স্টেইনলেস স্টিল বা কাস্ট আয়রনের তৈরি এসব পাত্রের তলায় ম্যাগনেটিক বেস থাকে, যা তাপ দ্রুত পরিবাহিত করে এবং রান্নার সময় কমিয়ে দেয়।
রান্নার সময় পাত্র ঢেকে রাখলে খাবার দ্রুত সিদ্ধ হয়, এতে ইন্ডাকশন দীর্ঘ সময় চালু রাখতে হয় না। এছাড়া ইন্ডাকশন ওভেনের আকার অনুযায়ী পাত্র নির্বাচন করা জরুরি। পাত্রের আকার ওভেনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে বিদ্যুৎ অপচয় বাড়তে পারে।
ওভেনের পরিচ্ছন্নতাও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে কুকটপে তেল ও ময়লা জমে তাপ বের হতে বাধা সৃষ্টি করে, যা যন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ বাড়াতে পারে।
কাজ শেষ হওয়ার পর অবশ্যই ইন্ডাকশন ওভেন বন্ধ করে রাখা উচিত। অনেক সময় মেন সুইচ চালু থাকলে অজান্তেই বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। তাই ব্যবহারের পর সুইচ বন্ধ রাখলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।
সিএ/এমআর


