বিশ্বের বিভিন্ন শহরে দিন দিন বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার বাতাসে কিছুটা স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে। গত ডিসেম্বর থেকে রাজধানীতে দূষণের মাত্রা বেশিরভাগ সময়ই বেশি ছিল। তবে সাম্প্রতিক কয়েকদিনে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি দেখা যাচ্ছে।
বিশেষ করে শুক্রবার রাতের বৃষ্টির পর রাজধানীর বাতাস অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় ঢাকার বায়ুমান কিছুটা উন্নত হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, দূষিত শহরের বৈশ্বিক তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ২০তম। এ সময় শহরটির বায়ুমান সূচক বা একিউআই স্কোর ছিল ১০০, যা মাঝারি বা মোটামুটি ভালো মানের বাতাস হিসেবে বিবেচিত হয়।
এর আগের দিন শুক্রবার একই তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ১৪তম এবং বায়ুমানের স্কোর ছিল ১২৪। তখনও বাতাস ঢাকাবাসীর জন্য সহনীয় থাকলেও সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য তা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে ধরা হয়েছিল।
অন্যদিকে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মিশরের কায়রো। শহরটির বায়ুমান সূচক ৪০৪, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। একই তালিকায় পাকিস্তানের লাহোর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, যেখানে বায়ুমানের স্কোর ২২৮। এটি খুবই অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়।
পাকিস্তানের আরেক শহর করাচি, যা আগের দিন তালিকার শীর্ষে ছিল, শনিবার পঞ্চম স্থানে নেমে এসেছে। শহরটির বায়ুমানের স্কোর ১৬১, যা এখনও অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে ভারতের রাজধানী দিল্লি ১৯২ স্কোর নিয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া ভারতের আরেক শহর কলকাতা সপ্তম স্থানে রয়েছে, যেখানে বায়ুমানের স্কোর ১৫৮।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে বাতাস ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর মাঝারি মানের বাতাস নির্দেশ করে। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে ধরা হয়।
এছাড়া ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোরকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সিএ/এমআর


