রমজান মাস মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ। তবে এই মাসের মাহাত্ম্য আরও বৃদ্ধি পায় শবে কদরের কারণে। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মহিমান্বিত রাতেই মহান আল্লাহ ফেরেশতা জিবরাইল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল করেন।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন,
اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰہُ فِیۡ لَیۡلَۃِ الۡقَدۡرِ ۚۖ ١ وَمَاۤ اَدۡرٰىکَ مَا لَیۡلَۃُ الۡقَدۡرِ ؕ ٢ لَیۡلَۃُ الۡقَدۡرِ ۬ۙ خَیۡرٌ مِّنۡ اَلۡفِ شَہۡرٍ ؕؔ ٣ تَنَزَّلُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ وَالرُّوۡحُ فِیۡہَا بِاِذۡنِ رَبِّہِمۡ ۚ مِّنۡ کُلِّ اَمۡرٍ ۙۛ ٤ سَلٰمٌ ۟ۛ ہِیَ حَتّٰی مَطۡلَعِ الۡفَجۡرِ ٪ ٥
নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি মহিমান্বিত রাতে। আর আপনি কি জানেন মহিমান্বিত রজনি কী? মহিমান্বিত রজনি হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এ রজনীতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ এবং রুহ তাদের প্রতিপালকের আদেশত্রুমে অবতীর্ণ হয়। এবং ভোর উদিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কেবল শান্তি আর শান্তি বিরাজ করে। (আল-কদর, আয়াত : ১-৫)
শবে কদর শব্দটি ফারসি থেকে এসেছে। শব অর্থ রাত এবং কদর অর্থ মর্যাদা বা সম্মান। আরবিতে এই রাতকে লাইলাতুল কদর বলা হয়। কদর শব্দের আরেক অর্থ ভাগ্য, পরিমাণ ও তকদির নির্ধারণ।
ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর যেকোনো একটিতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে এই রাত অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন।
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত,
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنْ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ
রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদরের সন্ধান করো।’ (বুখারি, হাদিস: ২০১৭; মুসলিম, হাদিস: ১১৬৯)
২০২৬ সালে শবে কদর অনুসন্ধানের সম্ভাব্য রাতগুলো হলো— ২১ রমজান বুধবার রাত ১১ মার্চ, ২৩ রমজান শুক্রবার রাত ১৩ মার্চ, ২৫ রমজান রোববার রাত ১৫ মার্চ, ২৭ রমজান মঙ্গলবার রাত ১৭ মার্চ এবং ২৯ রমজান বৃহস্পতিবার রাত ১৯ মার্চ।
ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, শবে কদরের ফজিলত অত্যন্ত মহান। এ রাতে ইবাদত করলে তা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম বলে বিবেচিত হয়।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কদরের রাতে ঈমান ও সওয়াবের আশায় নামাজে দাঁড়ায় তার পূর্বের সব পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (বুখারি, হাদিস: ২০১৪; মুসলিম, হাদিস: ৭৬০)
এই রাতে নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, দোয়া এবং মহান আল্লাহর কাছে তওবা করার মাধ্যমে ইবাদতে সময় কাটানো মুসলমানদের জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।
সিএ/এমআর


