দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে আলোচনা ও নীতিগত টানাপোড়েনের পর অবশেষে দক্ষিণ কোরিয়ায় শর্তসাপেক্ষে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে গুগল ম্যাপস। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার কঠোর নিরাপত্তা শর্ত মেনে স্থানীয় ভৌগলিক তথ্য ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। এর ফলে দেশটিতে গুগল ম্যাপসের নেভিগেশন, ড্রাইভিং নির্দেশনা ও অন্যান্য লোকেশনভিত্তিক সেবা পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার এতদিন জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে রেখে গুগলকে বিস্তারিত ভৌগলিক তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষাপটে দেশটির সংবেদনশীল স্থানের তথ্য বিদেশি সার্ভারে সংরক্ষণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছিল সিউল। এ কারণে গুগলকে স্থানীয় সার্ভার স্থাপনের শর্ত দেওয়া হয়েছিল।
এই বিধিনিষেধের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় গুগল ম্যাপসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা সীমিত ছিল। ফলে স্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নাভার ও কাকার মতো কোম্পানিগুলো দেশটির ডিজিটাল মানচিত্র সেবার বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক চাপ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যু বিবেচনায় নিয়ে সিউল তাদের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারসহ ওয়াশিংটনের কয়েকজন কর্মকর্তার চাপ এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য শুল্ক বাড়ানোর হুমকিও এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কুপাংয়ের তথ্য ফাঁসের ঘটনাও দুই দেশের সম্পর্কের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছিল। এই প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর অংশ হিসেবেই নীতিগত পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী গুগল এখন ১:৫,০০০ স্কেলের বিস্তারিত মানচিত্র ব্যবহার করতে পারবে। আগে এই সীমা ছিল ১:২৫,০০০ স্কেল পর্যন্ত। তবে জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনায় কিছু সংবেদনশীল এলাকা ঝাপসা করে দেখাতে হবে এবং ব্যবহারকারীদের তথ্য স্থানীয় সার্ভারে প্রক্রিয়াজাত করার বাধ্যবাধকতা বহাল থাকবে।
গুগলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস টার্নার দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা আরও উন্নত মানের মানচিত্র সেবা উপভোগ করতে পারবেন।
সিএ/এমআর


