নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত। নামাজের শুরুতে তাকবিরে তাহরিমা বলা ফরজ এবং এর মাধ্যমেই মুসল্লি নামাজে প্রবেশ করেন। তাকবিরে তাহরিমা ছাড়া নামাজ শুরু করা যায় না এবং এটি না বললে নামাজ শুদ্ধ হয় না।
ইমাম, মুক্তাদি বা একা নামাজ আদায়কারী—সবার জন্যই তাকবিরে তাহরিমা বলা আবশ্যক। ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, এই তাকবিরের মাধ্যমে নামাজে প্রবেশ করার পর নামাজের বাইরের সব কাজ নিষিদ্ধ হয়ে যায়।
রাসুল (সা.) বলেন, সালাতের চাবি হলো পবিত্রতা। তাকবিরে তাহরিমা নামাজের বাইরের সব কাজ হারাম করে দেয় এবং সালাম তা আবার হালাল করে। সুনানে তিরমিজির একটি হাদিসে এ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।
তাকবিরে তাহরিমা বলার সময় হাত ওঠানো সুন্নাত। ইসলামী চিন্তাবিদ ইমাম নববির মতে, তাকবিরে তাহরিমার সময় হাত ওঠানো সুন্নাত হওয়ার ব্যাপারে উম্মাহর আলেমদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) যখন নামাজ শুরু করতেন তখন তিনি উভয় হাত প্রসারিত করে উঠাতেন।
তবে নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে হাত ওঠানোর পদ্ধতিতে কিছু পার্থক্য রয়েছে। তাকবিরে তাহরিমার সময় পুরুষদের উভয় হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি কানের লতি বরাবর তুলতে হয়। এ সময় হাতের তালু কিবলার দিকে থাকে এবং আঙুলগুলো স্বাভাবিকভাবে রাখা হয়। এরপর আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করা হয়।
অন্যদিকে নারীদের জন্য হাত ওঠানোর পদ্ধতি ভিন্ন। নারীরা হাতের আঙুলগুলো মিলিয়ে কাঁধ পর্যন্ত হাত তুলবেন। হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, ওয়ায়েল ইবনে হুজর (রা.) থেকে বর্ণিত এক বর্ণনায় রাসুল (সা.) বলেছেন, যখন তোমরা নামাজ পড়বে তখন হাত কান বরাবর তুলবে এবং নারীরা তাদের হাত বুক বরাবর তুলবে।
ইসলামী শরিয়তের আলোকে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলো অনুসরণ করা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত বলে আলেমরা উল্লেখ করেছেন।
সিএ/এমআর


