জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের জন্য গত ১৬ ফেব্রুয়ারি জারি করা চিঠি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিল সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় কেন তা আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।
পৃথক দুটি রিটের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার ( ৫ ডিসেম্বর) এ রুল দেন। এর আগে সোমবার (৬ ডিসেম্বর) শুনানি নিয়ে আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করেছিলেন আদালত। নির্ধারিত দিনে রুল জারি করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, এর আওতায় সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথের চিঠি এবং গণভোট অধ্যাদেশের নির্দিষ্ট ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পৃথক দুটি রিট করা হয়। শুনানিতে রিট আবেদনকারীরা সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোকে সংবিধান পরিপন্থী হিসেবে দাবি করেন।
পটভূমিতে জানা যায়, ছাত্র–জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের উদ্যোগ নেয় সরকার।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়। রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যভিত্তিক রাজনৈতিক দলিল হিসেবে এ সনদকে বিবেচনা করা হয়।
সংস্কার-সংক্রান্ত কিছু প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের মতামত যাচাইয়ের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর গণভোট অধ্যাদেশ জারি করা হয়। পরে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘হ্যাঁ’ ভোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।
গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিল এবং জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান–ই–খোদা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি রিট দায়ের করেন। অন্যদিকে একই আদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারির চিঠির বৈধতা প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম গত সপ্তাহে আরেকটি রিট করেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও সৈয়দ মামুন মাহবুবসহ আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
সিএ/এমই


