গোপালগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র কোর্ট পাড়ায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় কোর্ট মসজিদটি জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত সাক্ষী। এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং ইসলামী স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন হিসেবেও পরিচিত। প্রায় ৭৭ বছরের ইতিহাস ধারণ করে মসজিদটি স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও আকর্ষণ করে আসছে।
১৯৪৭ সালে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অর্থায়নে মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক কাজী গোলাম আহাদের তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। পরে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল খাজা নাজিমুদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদটির উদ্বোধন করেন। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হচ্ছে।
দুই তলাবিশিষ্ট এই মসজিদে একসঙ্গে পাঁচ শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। সুউচ্চ মিনার ও পাঁচটি গম্বুজ মসজিদটির স্থাপত্যকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। সাদা মার্বেল পাথরের কারুকাজ, ঝুলন্ত ঝাড়বাতি ও প্রাচীন নকশা মসজিদটির আভিজাত্য ও সৌন্দর্য আরও বাড়িয়েছে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাও দেখা দিয়েছে। স্থানীয় মুসল্লিদের মতে, দেয়ালের কিছু অংশে ক্ষয় দেখা দেওয়ায় দ্রুত সংস্কার জরুরি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে মুসল্লির সংখ্যাও বাড়ছে, বিশেষ করে জুমার দিনে জায়গার সংকট তৈরি হয়। মূল স্থাপত্যশৈলী অক্ষুণ্ন রেখে আধুনিকায়নের দাবি উঠেছে।
প্রতিদিন অসংখ্য মুসল্লির পাশাপাশি ইতিহাসপ্রেমী ও গবেষকরাও মসজিদটির স্থাপত্য ও ঐতিহ্য দেখতে এখানে আসেন।
সিএ/এমআর


