চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরা এলাকায় শীর্ষ ব্যবসায়ী স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসভবন লক্ষ্য করে আবারও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) ভোরের দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় ভবনের দুই ও তিন তলার একাধিক জানালার কাচ ভেঙে যায়। একটানা গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে যায় আশপাশের বাসিন্দাদের। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাহ্রির খাবার শেষে অনেকে তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ করেই একের পর এক গুলির শব্দ শোনা যায়। মাদ্রাসার ছাত্র দারাজ হোসেন জানায়, ‘সাহ্রির খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ করে একের পর এক গুলির শব্দে ভয়ে ঘুম ভেঙে যায়। দুই-তিন মিনিট ধরে চলে একটানা গুলি। তারপর থামে। এরপর আর ঘুম হয়নি।’ তার দাবি, ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চরম ভয় ও উৎকণ্ঠা কাজ করছে।
ব্যবসায়ীর বাসভবনের পাশেই একটি আবাসিক মাদ্রাসা রয়েছে। সেখানে থাকা আরেক ছাত্র মোহাম্মদ রাফি জানায়, সাহ্রি শেষে ঘুমানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা ৮ থেকে ১০টি গুলির শব্দ শুনতে পায়। মাত্র দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই সবকিছু ঘটে যায়। এরপর এলাকা আবার নীরব হয়ে গেলেও তাদের মনে আতঙ্ক রয়ে গেছে।
এর আগে গত ২ জানুয়ারিও একই বাসভবন লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। সেসময় জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং দরজাতেও গুলি লাগে। সেই ঘটনার পর থেকে বাসাটিতে পুলিশি পাহারা জোরদার ছিল। তবে পাহারার মধ্যেই আবারও গুলির ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মোস্তাফিজুর রহমানের পারিবারিক ১০ তলা ভবনটি সিরাজদ্দৌলা সড়ক থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মিটার ভেতরে অবস্থিত। ভবনটিতে সাত ভাইয়ের পরিবার বসবাস করেন। ভবনের সামনের গলির দুই পাশে অন্যান্য আবাসিক ভবন থাকলেও পেছনে রয়েছে নির্মাণাধীন সড়ক ও চাক্তাই খাল। খালের ওপর একটি সেতুর নির্মাণকাজ চলছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের পেছনের দিক লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। দোতলা ও তৃতীয় তলার জানালার কাচ ভেঙে ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে আছে। দোতলায় ব্যবসায়ী ও পরিবারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চারজন গানম্যান অবস্থান করছিলেন। গুলির সময় তারা কক্ষেই ছিলেন। তৃতীয় তলায় বসবাস করেন মোস্তাফিজুর রহমানের এক ভাইয়ের পরিবার।
ভবনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আশেক জানান, সন্ত্রাসীরা ২ থেকে ৩ মিনিটে অন্তত ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড গুলি করেছে। চারটি গুলির খোসা ভবনের ভেতরে পাওয়া গেছে, যা পুলিশ সংগ্রহ করেছে। অন্য খোসাগুলো বাইরের নালায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
নির্মাণাধীন সেতু প্রকল্পে দায়িত্ব পালনকারী নিরাপত্তারক্ষী মোহাম্মদ জসিম বলেন, সন্ত্রাসীরা একটি প্রাইভেট কারে এসে দূরে গাড়ি রেখে হেঁটে বিকল্প সেতু পার হয়ে ভবনের পেছনে আসে। সেখানে অবস্থান নিয়ে গুলি চালিয়ে একই পথে দ্রুত সরে পড়ে। তিনি জানান, গুলির সময় অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকলেও শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়, তবে আতঙ্কে কেউ ঘর থেকে বের হননি।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, চাঁদার দাবিতে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ তাঁর সহযোগীদের দিয়ে এ হামলা চালিয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশ পরিহিত চারজন অস্ত্রধারী ভবনের পেছনের রাস্তা দিয়ে এসে সীমানাপ্রাচীরের বাইরে থেকে গুলি ছুড়ছে। তাদের মধ্যে একজনের দুই হাতে দুটি পিস্তল ছিল। অন্যদের কাছে সাব মেশিনগান, চায়নিজ রাইফেল ও শটগান ছিল বলে জানায় পুলিশ। সাজ্জাদের সহযোগী মো. রায়হান ও বোরহান এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, মোস্তাফিজুর রহমানের ভাই মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সিএ/এমই


