গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ফরিদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি উজ্জ্বল আকন্দের বাড়ি ভাঙচুর এবং তার স্বজনদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নয়নপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) উজ্জ্বল আকন্দ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন নয়নপুর গ্রামের ছকু আকন্দ (৫৫), তার স্ত্রী মোর্শেদা বেগম (৪০) ও মনজুরুল ইসলাম (৪২)। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেল ৪টার দিকে উজ্জ্বল আকন্দের চাচাতো ভাই শাহিন মিয়া রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মাদারগঞ্জ হাট থেকে তার ব্যাটারিচালিত অটো রিকশাভ্যান নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নয়নপুর গ্রামের জামে মসজিদের সামনে ১৩-১৪ জন দুর্বৃত্ত লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার রিকশার গতিরোধ করে। রিকশা ভাঙচুর ও শাহিন মিয়াকে মারপিট করা হয়। খবর পেয়ে তার স্বজনরা এসে বাঁধা দিলে তাদেরও মারধর করা হয়।
প্রাণ বাঁচাতে শাহিন ও তার স্বজনরা উজ্জ্বল আকন্দের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এসময় দুর্বৃত্তরা সেখানে প্রবেশ করে তাদের মারধর ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। উজ্জ্বল আকন্দ অভিযোগ করেন, তার চাচা ছকু আকন্দ ও চাচাতো ভাই ইউনুস আকন্দের ঘরবাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, তার স্বজনরা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব পারভেজ সরকারও এ একই তথ্য জানিয়েছেন।
তবে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক কারণে এই ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় বাজারের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে এই মারামারি সংঘটিত হয়েছে। সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, এটি রাজনৈতিক না অন্য কারণে ঘটেছে তা তদন্তের আওতায় রয়েছে। থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলমান।
সিএ/এএ


