ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বাতিয়া গ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিশাল বৃক্ষ স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘মন পবনের গাছ’ নামে। বয়স ও পরিচয় অজানা এই গাছটি ঘিরে একসময় প্রচলিত ছিল নানা কিংবদন্তি ও অলৌকিক বিশ্বাস, যা এখন অনেকটাই কালের স্রোতে হারিয়ে গেছে।
বাতিয়া গ্রামের ভূষাগঞ্জ বাজার থেকে মাঝিয়ালি বাজারমুখী পাকা সড়কের পাশে অবস্থিত এই গাছটির নিচেই রয়েছে গ্রামের একটি ঈদগাহ। গাছটির বিস্তৃত ছায়া দূরদূরান্ত থেকে মানুষকে আকর্ষণ করত। অতীতে বহু মানুষ মানত করার উদ্দেশ্যে এখানে আসতেন বলে স্থানীয়দের স্মৃতিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় গাছটিকে ঘিরে ‘মনের ইচ্ছা পূরণ হয়’ এমন বিশ্বাস প্রচলিত ছিল। অনেকে গাছের গোড়ায় মানত হিসেবে মুরগির বাচ্চা ছেড়ে দিতেন। তবে বর্তমানে সেই বিশ্বাস ও কুসংস্কার অনেকটাই বিলুপ্ত হয়েছে।
গাছটির আকার ও গঠনও স্থানীয়দের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। চারদিকে বিস্তৃত শেকড় ও ছাতার মতো ছড়িয়ে থাকা বিশাল ডালপালা গাছটিকে অনন্য রূপ দিয়েছে। পাতাগুলো দেখতে অনেকটা বটগাছের মতো হলেও তুলনামূলকভাবে বেশি লম্বা বলে স্থানীয়রা জানান।
গ্রামের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা ইয়াকুব আলী বলেন, তার বয়স এখন প্রায় ১০০ বছর এবং তার দাদা-বাবারাও এ গাছের সঠিক বয়স সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি। ধারণা করা হয়, গাছটির বয়স অন্তত কয়েকশ বছর, সম্ভবত ৪০০ বছরের কাছাকাছি বা তার বেশি।
গাছটির উৎপত্তি নিয়েও রয়েছে লোককথা। প্রচলিত কিংবদন্তি অনুযায়ী, ভারতের কামরূপ-কামাক্ষা অঞ্চল থেকে এক রাতে প্রবল ঝড়ে এই গাছটি উড়ে এসে তারাকান্দার বাতিয়া গ্রামে পড়ে। এরপর থেকেই এটি স্থানীয়দের কাছে রহস্যঘেরা ‘অলৌকিক গাছ’ হিসেবে পরিচিতি পায়।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বিশ্বাস অনেকটাই বদলে গেছে। স্থানীয় তরুণরা এখন এটিকে কেবল একটি প্রাচীন ছায়াদানকারী বৃক্ষ হিসেবেই দেখছেন। তারা জানান, গাছের নিচে বসে আড্ডা দিলেও কোনো অলৌকিক অনুভূতির অভিজ্ঞতা হয়নি।
স্থানীয় কবি কামাল মুহম্মদ বলেন, এটি মূলত একটি বটজাতীয় বৃক্ষ। এর আয়ু কয়েকশ বছর হতে পারে। অতীতে গাছকে ঘিরে নানা কুসংস্কার থাকলেও এখন মানুষ বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গিতে এটিকে দেখছে।
প্রকৃতিপ্রেমী ও স্থানীয়দের কাছে এখন ‘মন পবনের গাছ’ কেবল একটি ছায়াঘেরা প্রাচীন বৃক্ষ, যা ইতিহাস ও লোককথার সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে বাতিয়া গ্রামের বুকে।
সিএ/এমই


