টিন সার্টিফিকেট বা ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) হলো একটি ইউনিক নম্বর, যা বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করদাতাদের শনাক্ত করতে ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে একজন করদাতার আয়, কর পরিশোধ এবং আর্থিক কার্যক্রম সহজভাবে ট্র্যাক করা যায়।
টিন সার্টিফিকেট শুধু ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবীদের জন্য নয়, বরং বিভিন্ন নাগরিক ও আর্থিক কাজে এটি প্রয়োজন হয়। যেমন—ব্যবসার লাইসেন্স গ্রহণ, নতুন গাড়ি ক্রয়, ক্রেডিট কার্ড নেওয়া, জমি ক্রয়-বিক্রয় (সিটি করপোরেশন/পৌর এলাকায়), কোম্পানির শেয়ার কেনা, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, পেশাগত নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, সরকারি টেন্ডার জমা এবং অনলাইন আয়ের ক্ষেত্রেও এটি প্রয়োজন হতে পারে।
টিন সার্টিফিকেট করতে যা প্রয়োজন
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), বর্তমান ঠিকানা, জেলা ও বিভাগ, মোবাইল নম্বর এবং বৈবাহিক অবস্থা (প্রযোজ্য হলে স্বামী/স্ত্রীর তথ্য) সহ সঠিক তথ্য দিতে হয়। আবেদন শেষে একটি ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড প্রদান করা হয়, যা ভবিষ্যতে লগইন ও তথ্য ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা জরুরি।
অনলাইনে ই-টিন করার ধাপ
প্রথম ধাপে আবেদনকারীকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই-টিন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হয়। এরপর ‘রেজিস্টার’ অপশনে ক্লিক করে আবেদন ফর্মে প্রবেশ করতে হয়।
দ্বিতীয় ধাপে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয় এবং সব তথ্য ইংরেজিতে পূরণ করতে হয়। এখানে একটি ইউজার নেম দিতে হয়, অনেকেই NID নম্বর ব্যবহার করেন। এরপর একটি পাসওয়ার্ড সেট করে তা পুনরায় নিশ্চিত করতে হয়।
এরপর ‘সিকিউরিটি কোয়েশ্চান’ নির্বাচন করতে হয়, যেমন জন্মস্থান বা প্রিয় রং ইত্যাদি। এই প্রশ্ন ভবিষ্যতে পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।
সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর আবেদন সম্পন্ন হলে অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট পাওয়া যায়।
সিএ/এমই


