বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে দুটি নতুন বৃহৎ যাত্রীবাহী জাহাজ ‘রূপসা’ ও ‘সুগন্ধা’। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এগুলো দেশের নৌপথে চলাচলকারী সর্ববৃহৎ যাত্রীবাহী জাহাজের মধ্যে অন্যতম। আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে যাত্রীদের চাপ ও ভোগান্তি কমাতে জাহাজ দুটি চালু করা হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দেশের শীর্ষস্থানীয় জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপবিল্ডার্স লিমিটেড নবনির্মিত জাহাজ দুটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।
সংশ্লিষ্টরা এটিকে দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। আধুনিক নকশা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নির্মিত জাহাজ দুটি যাত্রীদের আরাম ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে।
প্রতিটি জাহাজে সর্বমোট ৭৬৪ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা রয়েছে। ক্রু থাকবেন ৪৪ জন। সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২ নটিক্যাল মাইল। বিলাসবহুল কেবিন রয়েছে মোট ৪৬টি, যার মধ্যে ভিআইপি, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কেবিন অন্তর্ভুক্ত। জাহাজ দুটি ঢাকা-বরিশাল-খুলনা রুটে চলাচল করবে।
ভ্রমণকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে রাখা হয়েছে বিভিন্ন শ্রেণিভিত্তিক আসন ও আবাসন সুবিধা। উচ্চবিত্ত ও শৌখিন পর্যটকদের জন্য রয়েছে ৪টি ভিআইপি কেবিন ও ২৭টি প্রথম শ্রেণির কেবিন। দ্বিতীয় শ্রেণিতে রয়েছে ১৫টি কেবিন এবং অতিরিক্ত ৯০ জন যাত্রীর জন্য আধুনিক চেয়ার সিটিং ব্যবস্থা। সাধারণ যাত্রীদের জন্য বিস্তৃত ডেকে ৫৮২ জনের আসন সুবিধা রাখা হয়েছে।
ওয়েস্টার্ন মেরিন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন সোহেল হাসান জানান, এই জাহাজগুলো আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতে বড় ধরনের স্বস্তি দেবে। তিনি বলেন, এটি শুধু যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করবে না, বরং সড়ক ও রেলপথের ওপর অতিরিক্ত চাপের যে যানজট তৈরি হয়, তা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চট্টগ্রামের নিউ ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপবিল্ডার্স লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় নির্মিত জাহাজ দুটি দেশের নৌ-পরিবহন খাতের সক্ষমতা বাড়াবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতকে আরও সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিএ/এএ


