শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষার তিনটি অগ্রাধিকার ঘোষণা করেছেন। এসব হলো: শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি, জাতীয় কারিকুলাম (পাঠ্যক্রম) পর্যালোচনা, এবং কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন।
সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান। পরে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একসময় দেশে শিক্ষার্থীরা অটোপাস পেত; এ সংস্কৃতি আর ফিরে যাবে না। অতীতের নকলবিরোধী অভিযানের পুনরাবৃত্তিরও প্রয়োজন হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া ও আন্দোলন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনি শিক্ষকতা করবেন, পাশাপাশি আন্দোলন করবেন—এটি হতে পারে না। আপনারা যে দাবি-দাওয়া করেছেন, আমরা তা দেখব। রাজপথে গিয়ে দাবি আদায়ের কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা শিক্ষক-পক্ষেই থাকি, কারণ তাঁরা মানুষ গড়ার কারিগর।’
দুর্নীতি রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বদলি অটোমেটিক অ্যাপসের মাধ্যমে হবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বদলি হবে মেধার ভিত্তিতে, কোনো ধরনের দুর্নীতি ছাড়া। অ্যাপসে সব তথ্য থাকবে এবং অটোমেটিক সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির প্রক্রিয়াটি দ্রুত চালু করা হবে এবং প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি নীতিমালার আওতায় আনার বিষয়েও পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মন্ত্রী জানান, যত্রতত্র অনিবন্ধিত বা অস্থায়ী অবকাঠামোয় স্কুল পরিচালনা গ্রহণযোগ্য নয় এবং নিবন্ধন ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিক্ষা খাতের ১২টি সরকারি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সরকার শিক্ষা খাতকে আর খরচের খাত হিসেবে দেখবে না। শিক্ষা হবে রাষ্ট্রের প্রথম বিনিয়োগ, মানবসম্পদের মূল কারখানা এবং জাতি গঠনের প্রধান প্রকল্প। আমরা শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করব না, শিক্ষা দিয়ে রাষ্ট্র গড়ব।’
সিএ/এসএ


