শাকসবজি বা ফলমূলের সঙ্গে নয়, বরং সিগারেটের সঙ্গেই বেশি মিল রয়েছে প্রসেসড বা অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের। এসব খাবার মানুষের শরীরে এমন প্রভাব ফেলে, যা আসক্তি তৈরির ক্ষেত্রে সিগারেটের মতোই শক্তিশালী। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকরা বলছেন, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ জরুরি হয়ে পড়েছে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার ও সিগারেট—উভয়ই এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে মানুষ এগুলোর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে এবং বারবার গ্রহণ করতে চায়। উৎপাদনের সময় পণ্যের উপাদান ও মাত্রা এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়, যা দ্রুত মস্তিষ্কের আনন্দ অনুভূতির কেন্দ্রকে সক্রিয় করে তোলে। এর ফলে মানুষ সহজেই এসব খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
বিশ্বজুড়ে সহজলভ্য এসব খাবার মূলত শিল্পকারখানায় উৎপাদিত হয়। কোল্ড ড্রিংকস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, বিস্কুট ও চিপসের মতো খাবারে কৃত্রিম রং, সুগন্ধি এবং বিভিন্ন মিশ্রণকারী উপাদান ব্যবহার করা হয়। গবেষকদের মতে, এসব উপাদান মানুষের খাওয়ার অভ্যাসকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং অতিরিক্ত গ্রহণে উৎসাহিত করে।
গবেষণায় আরও বলা হয়, অনেক সময় এসব খাবারের গায়ে কম চর্বি বা চিনি-মুক্ত লেখা থাকলেও তা প্রকৃতপক্ষে স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। বরং এ ধরনের লেবেলিংকে একধরনের বিভ্রান্তিকর কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন গবেষকরা। এতে ভোক্তারা ভুলভাবে নিরাপদ মনে করে এসব খাবার বেশি গ্রহণ করেন।
গবেষকদের অভিমত, কোনো বস্তু আসক্তি তৈরি করে কি না, তা নির্ধারণের যে মানদণ্ড রয়েছে, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার সেগুলোর সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে আসক্তি তৈরি করুক বা না করুক, এসব খাবারের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্ষেত্রেও নীতিগত ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সিএ/এমআর


