সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায়, ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সাররা সকালে এক মগ গরম পানি পান করার পর নানা উপকারের কথা বলছেন। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, এই অভ্যাসে নাকি ওজন কমে, ত্বক উজ্জ্বল হয়, পিরিয়ডের ব্যথা কমে এবং নানা শারীরিক সমস্যার সমাধান হয়। বিষয়টি সহজ ও প্রাকৃতিক মনে হলেও বাস্তবে এর পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি খুব সীমিত।
গরম পানি পান করা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং অনেকের কাছে এটি আরামদায়ক। তবে বিজ্ঞান বলছে, গরম পানির বিশেষ কোনো অতিরিক্ত ক্ষমতা নেই। শরীরের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে কিডনি ভালোভাবে কাজ করে, হজম প্রক্রিয়া সচল থাকে এবং মানসিক চাপও তুলনামূলক কম অনুভূত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত পানি না খেলে দৈনন্দিন চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে গরম পানি নিয়ে একটি বড় ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। গরম পানি চর্বি গলিয়ে দেয়—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে খাবারের আগে পানি পান করলে পেট ভরা ভাব তৈরি হয়, ফলে খাবারের পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে পারে। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মিললেও এর সঙ্গে পানির তাপমাত্রার সরাসরি সম্পর্ক নেই।
গলা ব্যথা বা সর্দি-কাশির সময় গরম পানীয় কিছুটা আরাম দিতে পারে। তাপ ও ভাপ গলার ভেতরের জমে থাকা কফ নরম করে অস্বস্তি কমায়। তবে এটি সংক্রমণ সারায় না বা জীবাণু ধ্বংস করে না, কেবল সাময়িক স্বস্তি দেয়।
ত্বক উজ্জ্বল হওয়ার ক্ষেত্রেও গরম পানির কোনো জাদুকরী ভূমিকা নেই। পর্যাপ্ত পানি পান করলে ত্বকের শুষ্কতা কমে এবং স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় থাকে। কিন্তু পানির তাপমাত্রা ত্বকের উজ্জ্বলতা নির্ধারণ করে না। শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করার কাজ লিভার ও কিডনি করে, গরম পানি নয়।
পিরিয়ডের সময় তলপেটে গরম পানির ব্যাগ দিলে ব্যথা কমতে পারে, তবে গরম পানি পান করলে ব্যথা কমে—এমন প্রমাণ নেই। এই সময়ে শরীর আর্দ্র রাখা জরুরি হলেও সাধারণ গরম পানি কোনো ব্যথানাশকের বিকল্প নয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, গরম পানি খাওয়ার অভ্যাস যদি কাউকে বেশি পানি পান করতে উৎসাহিত করে, তবে তা ভালো। তবে ওজন কমানো বা ত্বক উজ্জ্বল করার জন্য শুধু গরম পানির ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের দিকেই গুরুত্ব দেওয়া বেশি কার্যকর।
সিএ/এমআর


