রমজান মাস এলেই গৃহিণীদের দৈনন্দিন ব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সেহরি, ইফতার ও রাতের খাবার—সবকিছু ঠিকঠাক ও সুস্বাদু হচ্ছে কি না, তা নিয়ে থাকে বাড়তি দুশ্চিন্তা। বিশেষ করে তরকারিতে লবণ ঠিক পরিমাণে হয়েছে কি না, এই বিষয়টি অনেকের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রোজা রেখে রান্না করতে গিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন, তরকারির লবণ চেখে দেখলে রোজা ভেঙে যাবে কি না। এ বিষয়ে ফিকহের কিতাবসমূহে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। প্রয়োজন হলে, যেমন লবণ কম-বেশি হলে পরিবারের কষ্ট বা অসন্তোষের আশঙ্কা থাকলে, রোজা অবস্থায় অল্প করে জিহ্বায় স্বাদ নেওয়া জায়েজ। এতে রোজা ভঙ্গ হয় না।
তবে এ ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। স্বাদ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ফেলে দিতে হবে। ভালোভাবে কুলি করে নেওয়া উত্তম। কোনোভাবেই যেন খাবারের কোনো অংশ গলার নিচে চলে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
অন্যদিকে, যদি এমন কোনো প্রয়োজন না থাকে এবং লবণ কম-বেশি হলেও কারও কষ্টের আশঙ্কা না থাকে, তাহলে অযথা স্বাদ দেখা থেকে বিরত থাকাই উচিত। এতে রোজার পবিত্রতা রক্ষা পায়।
আর যদি ভুলবশত খাবারের কোনো অংশ গিলে ফেলা হয়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। সে দিনের রোজা পূর্ণ করতে হবে এবং পরে একটি রোজা কাজা আদায় করতে হবে, তবে কাফফারা লাগবে না। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে খাবার গিলে ফেললে কাজা ও কাফফারা উভয়ই আদায় করতে হবে। এই বিধান ফতোয়ায়ে শামিতে উল্লেখ আছে।
এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা পাওয়া যায় মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, আলমুহিতুল বুরহানি, তাবয়িনুল হাকাইক এবং ফাতাওয়া হিন্দিয়া গ্রন্থে।
সিএ/এমআর


