নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আবারও সময় চেয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আজ বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে র্যাব-১১-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দীপক চন্দ্র মজুমদার লিখিতভাবে সময়ের আবেদন করলে আদালত তা গ্রহণ করেন।
একই দিনে মামলার আট আসামি আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। হাজিরা দেওয়া আসামিরা হলেন: ইউসুফ হোসেন, ইয়ার মোহাম্মদ পারভেজ, তায়েফ উদ্দিন, মামুন মিয়া, কাজল হালদার, আবদুল্লাহ আল মামুন, সাফায়েত হোসেন ও রিফাত বিন ওসমান। পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আবদুস সামাদ বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা লিখিতভাবে সময়ের আবেদন করেছেন। ধার্য তারিখে মামলার আট আসামি আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।”
বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ বলেন, “আজ আদালতের ১০১ কার্যদিবসেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। দীর্ঘদিন প্রতিবেদন না দেওয়ায় বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়েছে।”
ঘটনার পটভূমি:
২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খান সড়কের বাসা থেকে নিখোঁজ হন তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর ঘটনায় সুলতান শওকত ভ্রমর, ইউসুফ হোসেনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়।
২০১৪ সালের ৫ মার্চ র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, ওসমান পরিবারের নির্দেশে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছেন। অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করা এখনও সম্ভব হয়নি।
ত্বকী হত্যার প্রতি প্রতিবাদ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট প্রতি মাসের ৮ তারিখে ঘাতকদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে।
সিএ/এমই


