আধুনিক বিশ্বে মানুষের ভোগ-বিলাস ও বস্তুগত অর্জন বেড়েছে, কিন্তু মানসিক শান্তির অভাব ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। বাহ্যিক সফলতার মাঝেও অনেকের মনে জন্ম নিচ্ছে শূন্যতা ও বিষণ্ণতা। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এর মূল কারণ আত্মিক প্রশান্তির অভাব।
ইসলামি বর্ণনায় মানুষের দেহ মাটির তৈরি হলেও আত্মা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত এক বিশেষ নিয়ামত। তাই আত্মিক শান্তি অর্জন সম্ভব কেবল সৃষ্টিকর্তার নির্দেশিত পথেই। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘জেনে রাখ, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।’ হাদিসে রাসুল সা. মানুষের হৃদয়কে জীবিত ও মৃতের সঙ্গে তুলনা করে জিকিরের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, গুনাহ, অবহেলা ও আল্লাহ বিমুখতার কারণে অন্তরে যে মরিচা জমে, তা দূর করার উপায় হলো জিকির। হাদিসে অন্তর পরিষ্কারের জন্য জিকিরকে পলিশের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। নিয়মিত জিকির মানুষের মনকে স্থির করে এবং আত্মিক শক্তি জোগায়।
ইসলামে নিরাপদ জীবনের ধারণা কেবল বাহ্যিক নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নয়। কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হলে মানুষের জীবন সংকুচিত হয়ে পড়ে। আলেমদের মতে, জিকিরকারীর সঙ্গে আল্লাহর সান্নিধ্য থাকে, যা মানুষকে মানসিক নিরাপত্তা ও দৃঢ়তা দেয়।
সব আমলের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হিসেবে জিকিরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার—এই জিকিরগুলোকে রাসুল সা. বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। আলেমদের মতে, নিয়মিত জিকির চর্চা মানুষকে বিষণ্ণতা থেকে মুক্ত করে আত্মিক প্রশান্তির পথে নিয়ে যেতে পারে।
সিএ/এমআর


