ভারতের বিহার রাজ্যে খোলা স্থানে মাছ ও মাংস বিক্রি বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের নেতৃত্বে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে ইতোমধ্যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে রাস্তার পাশে কিংবা উন্মুক্ত স্থানে মাছ ও মাংস বিক্রি করা যাবে না। কেবল লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও নির্ধারিত দোকানেই এসব পণ্য বিক্রির অনুমতি থাকবে। এর মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার কথা বলছে রাজ্য প্রশাসন।
রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা জানিয়েছেন, এই নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এবং কেউ আইন ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কবে থেকে এ নির্দেশ কার্যকর হবে কিংবা আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনও জানানো হয়নি।
বিহারে আগে থেকেই মদ বিক্রি নিষিদ্ধ রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার প্রকাশ্যে মাছ ও মাংস বিক্রিতে কড়াকড়ি আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হলো। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং জেলা প্রশাসনকে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে ২০২৫ সালে উত্তর প্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার ধর্মীয় স্থানের ৫০০ মিটারের মধ্যে মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করে। বিহারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে অনেকেই সেই নীতির সঙ্গে তুলনা করছেন।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি বিহার সরকারের পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘তবে কি শপিং মলে মাংস বিক্রি হবে? আমাদের মাছ–মাংসের চাষিরা তো রাস্তায় বসেন। পুকুর থেকে মাছ ধরে নিয়ে এসে বিক্রি করেন। তাই আজ যদি বলা হয়, বাংলায় মাছ বিক্রি বন্ধ। মাংস বিক্রি, ডিম বিক্রি বন্ধ? কারণ, আজ বিজেপি অন্ধ?’
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, মাংস বিক্রি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বিহার সরকার বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশের নীতির কাছাকাছি অবস্থান নিচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে জনস্বাস্থ্য ও শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
সিএ/এসএ


