মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি রক্ত পরিশোধন, বর্জ্য অপসারণ এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস কিডনির কার্যকারিতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। নিয়মিত কিছু নির্দিষ্ট খাবার গ্রহণ করলে কিডনি সুস্থ থাকে এবং প্রাকৃতিকভাবে পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে।
চর্বিযুক্ত সামুদ্রিক মাছ যেমন স্যামন ও টুনা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ। এগুলো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, যা কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এসব মাছ শরীরকে উচ্চমানের প্রোটিন সরবরাহ করে।
লাল আঙুরে থাকা রিসভারিট্রল, পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েড অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এসব উপাদান কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, ফলে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।
ফুলকপি ভিটামিন কে, ফোলেট ও ফাইবারের ভালো উৎস। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান কিডনির সুরক্ষায় সহায়ক। কম পটাসিয়াম থাকায় কিডনি রোগীদের জন্যও এটি উপযোগী।
লেবু ও কমলার মতো সাইট্রাস ফল শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং কিডনি থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। এতে থাকা সাইট্রেট কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়।
ব্লুবেরিতে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন কোষের ক্ষতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এতে সোডিয়াম, পটাসিয়াম ও ফসফরাস কম থাকায় এটি কিডনির জন্য নিরাপদ খাবার হিসেবে বিবেচিত।
মাশরুম বি ভিটামিন ও সেলেনিয়ামসহ নানা পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। এটি উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিনের ভালো উৎস এবং কিডনি সুস্থ রাখতে সহায়ক।
ক্র্যানবেরি মূত্রনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান কিডনিকে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এসব খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে কিডনির কার্যকারিতা ভালো থাকে। তবে যাদের কিডনি রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করা জরুরি।
সিএ/এমআর


