বয়স, জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব দৃষ্টিশক্তির ওপর সরাসরি পড়ে। আধুনিক জীবনে স্ক্রিননির্ভরতা বাড়ার ফলে চোখের ওপর চাপও বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পুষ্টিবিদ ও চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, শিকড়জাতীয় কিছু খাবার চোখের স্বাস্থ্যে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটির তাম আনহ জেনারেল হাসপাতালের হাই-টেক আই সেন্টারের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. ডুয়ং মিন ফুক জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাকুলা ডিজেনারেশন, রাতকানা ও ঝাপসা দেখার মতো সমস্যা বাড়তে থাকে। ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলে এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
গাজর চোখের যত্নে বহুল পরিচিত একটি খাবার। এতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে গিয়ে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়, যা রেটিনার সুস্থতা বজায় রাখে এবং রাতের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে। একই সঙ্গে এটি ম্যাকুলা ডিজেনারেশন ও ছানির ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
মিষ্টি আলুতে প্রচুর বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন সি ও ই রয়েছে। এতে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন রেটিনা সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে এবং চোখের বার্ধক্য প্রক্রিয়া ধীর করে। পাশাপাশি লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন নীল আলোর ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।
বিটে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন চোখকে অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে। এছাড়া এতে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চোখের অপটিক নার্ভ ও রেটিনায় পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ নিশ্চিত করে।
হলুদের কারকিউমিন উপাদান চোখের প্রদাহ কমাতে কার্যকর। এটি কনজাংটিভাইটিস, গ্লুকোমা ও ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। পেঁয়াজে থাকা কোয়েরসেটিন চোখের কোষকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।
সিএ/এমআর


