হলুদ দুধ বা গোল্ডেন মিল্ক বহুদিন ধরেই আমাদের ঘরোয়া খাদ্যতালিকার অংশ। সর্দি, কাশি কিংবা শরীর ব্যথার সময় ছোটবেলা থেকেই এই পানীয়ের ব্যবহার দেখা যায়। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোতেও উঠে এসেছে, নিয়মিত ও পরিমিতভাবে গোল্ডেন মিল্ক পান করলে শরীর ও মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
হলুদের প্রধান কার্যকর উপাদান কারকিউমিন প্রদাহনাশক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে শরীরে প্রদাহ থাকলে তা আর্থ্রাইটিস, জয়েন্টের ব্যথা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তির কারণ হতে পারে। গোল্ডেন মিল্কে থাকা কারকিউমিন এই প্রদাহ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
এই পানীয়তে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি র্যাডিক্যাল দমন করে কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। কোষের ক্ষতি কমলে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকিও কিছুটা হ্রাস পায়।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, হলুদ ও আদা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও এটি উপকারে আসতে পারে। তবে বাজারজাত গোল্ডেন মিল্কে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ঘরে তৈরি পানীয়ের পরামর্শ দেন।
কারকিউমিন ধমনিতে চর্বি জমা কমাতে সহায়তা করে, যা হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক সময় গোল্ডেন মিল্কে আদা ও দারুচিনি যোগ করা হয়, যা রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।
দুধে থাকা ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হলুদ দুধ পান করলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।
কারকিউমিন নিয়ে ক্যানসার সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণা চলমান রয়েছে। কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, এটি ক্যানসার চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে একে ক্যানসার প্রতিরোধ বা চিকিৎসার একমাত্র উপায় হিসেবে দেখা যায় না।
হলুদ ও আদা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। অম্বল, বদহজম কিংবা পেট ফাঁপার মতো সমস্যায় গোল্ডেন মিল্ক আরাম দিতে পারে। একই সঙ্গে কারকিউমিনের জীবাণুনাশক গুণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কারকিউমিন মস্তিষ্কের প্রদাহ কমাতে পারে। এর ফলে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি ভালো থাকতে সাহায্য হয় এবং উদ্বেগ কমতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গোল্ডেন মিল্কে অল্প পরিমাণ কালো গোলমরিচ যোগ করলে কারকিউমিন শরীরে ভালোভাবে শোষিত হয়। দুধের স্বাস্থ্যকর চর্বিও এই শোষণে সহায়তা করে।
গোল্ডেন মিল্ক দিনের যেকোনো সময় পান করা যায়। কেউ রাতে ঘুমানোর আগে, কেউ আবার সকালে কফির বিকল্প হিসেবে এটি পান করেন। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে পেটে অস্বস্তি, ডায়রিয়া বা বমি ভাব হতে পারে। যাদের দুধ বা হলুদের উপাদানে অ্যালার্জি আছে, তাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সিএ/এমআর


