চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) আবাসিক হলের একটি কক্ষে মাদক পাওয়া যাওয়ার পর তিন শিক্ষার্থীকে একাডেমিক কার্যক্রমসহ হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও চার শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আরও চার শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হয়েছে।
গণমাধ্যমকে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জানুয়ারি স্টুডেন্ট ডিসিপ্লিন কমিটির ২৯৯তম জরুরি সভার সিদ্ধান্তক্রমে ছাত্রকল্যাণ অধিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল আলম স্বাক্ষরিত ১১টি আলাদা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শহীদ তারেক হুদা হলে রাত ১টায় ছাত্রকল্যাণ অধিদফতরের পরিদর্শক দল এবং মাদক প্রতিরোধ কমিটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে হলের একটি কক্ষে গাঁজা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন শিক্ষার্থীকে শাস্তি দিয়েছে।
মাদকবিরোধী শাস্তিপ্রাপ্তরা ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এর মধ্যে একজনকে ছয় মাসের জন্য এবং অন্য দুইজনকে দুই বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তিন শিক্ষার্থীকে আজীবন হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের দুজন, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের একজন এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের একজন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কিছু শিক্ষার্থী বরাদ্দপ্রাপ্ত কক্ষে না থেকে অন্য কক্ষে থাকার কারণে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এখনও গ্রহণ করা হয়নি। সব শিক্ষার্থীকে ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটার মধ্যে ছাত্রকল্যাণ দফতরে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চাইলে ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় স্টুডেন্ট ডিসিপ্লিন কমিটির সভায় স্বপক্ষে শুনানি দেওয়ার সুযোগও পাবেন।
চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবু মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন। এর জন্য ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এর পরে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সিএ/এসএ


