মসজিদ মুসলিমদের কাছে শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক প্রতিষ্ঠান। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর যুগে মসজিদ ছিল মুসলিম সমাজ পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু। আধুনিক পরিভাষায় একে মুসলিম সমাজের কমিউনিটি সেন্টার বলা যায়।
ইসলামী চিন্তাবিদ ড. জাসের আওদার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নবী যুগে মদিনার মসজিদে নববী বহুমুখী কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল। ইবাদতের পাশাপাশি সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও মানবিক নানা কাজ সেখান থেকেই পরিচালিত হতো।
নবীজির যুগে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়ের প্রধান কেন্দ্র ছিল মসজিদে নববী। সেখানে পুরুষ ও নারীদের জন্য প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত ছিল। নারীরা আলাদা স্থানে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতেন। রাসুলুল্লাহ স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, আল্লাহর বান্দিদের মসজিদে যেতে বাধা দেওয়া যাবে না।
মসজিদ ছিল সামাজিক যোগাযোগের কেন্দ্রও। কোনো সাহাবিকে কয়েক দিন মসজিদে না দেখা গেলে নবী করিম (সা.) নিজেই তার খোঁজ নিতেন। কেউ অসুস্থ হলে দেখতে যেতেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতার ব্যবস্থা করতেন।
ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ব্যক্তিরা সরাসরি মসজিদে এসে প্রশ্ন করতেন। অমুসলিমদেরও মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হতো না। একই সঙ্গে মসজিদে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হতো। অশিক্ষিত সাহাবিরা এখানেই পড়া ও লেখা শিখতেন, যা পরবর্তীতে মুসলিম সভ্যতার জ্ঞানভিত্তিক ভিত্তি গড়ে তোলে।
আনন্দ ও সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রেও মসজিদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ে উপলক্ষে ঘোষণা দেওয়া, ঈদের দিনের আনন্দ আয়োজন কিংবা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী মসজিদেই অনুষ্ঠিত হতো। এমনকি যুদ্ধাহত ও অসুস্থদের চিকিৎসা ও সেবাও মসজিদে নববীতে দেওয়া হতো।
তবে মসজিদে একটি কাজ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। তা হলো কেনাবেচা ও বাণিজ্যিক লেনদেন। নবী করিম (সা.) স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, মসজিদকে কোনোভাবেই বস্তুগত লাভের স্থানে পরিণত করা যাবে না।
সব মিলিয়ে নবী যুগে মসজিদ ছিল একটি জীবন্ত সমাজকেন্দ্র। ইবাদতের পাশাপাশি শিক্ষা, সেবা, আলোচনা ও মানবিকতার চর্চার মাধ্যমে মুসলিম সমাজ গঠনে মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
সিএ/এমআর


