বাংলাদেশে জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জিততে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এ কথা বলেন ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণে আদিবাসী জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক আলোচনায়। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’, ‘না’ ভোট এই ধরনের গণভোটের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় এবং প্রতারণামূলক। এখানে কিছুতেই ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জিততে দেওয়া হবে না।
রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টার কনফারেন্স হলে আজ মঙ্গলবার জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত এই গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, ‘যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে, তারা ইতিমধ্যে হেরে গেছে। জনগণ নিজেই বুঝে গেছে যে এটা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে যাবে না। সরকার প্রশাসনকে ব্যবহার করে এ নিয়ে সবকিছু করলেও ফলাফল পাল্টানো সম্ভব হবে না।’
তিনি পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামো সব সময় আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করেছে। গণ–অভ্যুত্থানের পরও বাস্তবে সমাজের প্রতিটি স্তরে বৈষম্য বিদ্যমান। দেশের পরিচালনা জনগণের কথায় হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি তা পেছনে নেয়ার চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমা আলোচনায় বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিবাসীদের উপেক্ষা করে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। ২০২৫ সালে দেশে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওপর ৯৩টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৪১টি রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার সম্পর্কিত।
তিনি ছয়টি দাবি উত্থাপন করেন: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিচয়ের স্বীকৃতি, ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল, সংসদে আসন সংরক্ষণ এবং নিজ নিজ ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ ভয়ে থাকে। ভোট দেওয়ার আগে বা পরে তাঁরা প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর দ্বারা নিপীড়নের শিকার হন। দেশের সংবিধানে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকারকে প্রায়শই অস্বীকার করা হয়।
ঢাকা–১২ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার বলেন, বাংলাদেশ কোনো একক জাতি রাষ্ট্র নয়, তবু জাতীয় সংসদে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব খুবই কম। মুক্তিযুদ্ধ থেকে চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থান পর্যন্ত সব জাতিসত্তার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল, কিন্তু সেই ইতিহাস সংরক্ষিত নেই।
আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন যুব ফোরামের সভাপতি টনি চিরান। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সহসাধারণ সম্পাদক গজেন্দ্র নাথ মাহাতো, বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক ফাল্গুনী ত্রিপুরা, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কার্যনির্বাহী সদস্য রিপন বানাই এবং মানবাধিকারকর্মী ত্রিজিনাদ চাকমা।
সিএ/এমই


