আজকাল অনেকেই নিয়মিত মাথাব্যথার সমস্যার কথা বলছেন। মাঝেমধ্যে মাথাব্যথা হওয়া সাধারণ বিষয় হলেও, প্রতিদিন বা ঘন ঘন ব্যথা হলে বিষয়টি অবহেলা না করাই ভালো। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত মাথাব্যথার পেছনে বড় কোনো রোগের চেয়ে দৈনন্দিন জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক চাপের ভূমিকা বেশি থাকে। তাই সমস্যার ধরন বুঝে অভ্যাসে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারাদিনের কাজের চাপ, মানসিক উদ্বেগ ও অতিরিক্ত চিন্তার কারণে অনেকেরই সন্ধ্যার দিকে মাথাব্যথা শুরু হয়। দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলেও চোখে চাপ পড়ে এবং সেখান থেকে মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে চশমার পাওয়ার ঠিক না থাকলেও এই সমস্যা বাড়ে।
শরীরে পানির ঘাটতিও নিয়মিত মাথাব্যথার একটি বড় কারণ। সারাদিন পর্যাপ্ত পানি না পান করলে বিকেলের পর মাথা ভারী লাগে এবং ব্যথা শুরু হতে পারে। একইভাবে দুপুরের খাবার দেরিতে খাওয়া বা বিকেলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলেও রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গিয়ে মাথাব্যথা দেখা দেয়।
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনজনিত মাথাব্যথা নির্দিষ্ট সময়ে হয়, বিশেষ করে সন্ধ্যা বা রাতের দিকে। এ সময় আলো বা শব্দে অস্বস্তি, বমি ভাব কিংবা চোখে ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আবার বিকেলের দিকে রক্তচাপের ওঠানামার কারণেও কারও কারও মাথাব্যথা হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, কিছু লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। প্রতিদিন ব্যথার মাত্রা বাড়তে থাকলে, হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা হলে, চোখে ঝাপসা দেখা, বমি, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা মাথাব্যথার সঙ্গে জ্বর বা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
সিএ/এমআর


