নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর যুগে নারী সাহাবিদের ভূমিকা শুধু ঘরকেন্দ্রিক ছিল না। অনেক নারী সাহাবি সংসার ও সন্তান প্রতিপালনের পাশাপাশি সমাজের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কল্যাণমূলক ও উৎপাদনমুখী কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। কর্মক্ষেত্রে তাদের এই অবদান ইসলামের সামগ্রিক সামাজিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেছে।
যুদ্ধের ময়দানে নারী সাহাবিদের মানবিক ও সেবামূলক ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আহতদের চিকিৎসা করতেন, অসুস্থদের সেবা দিতেন এবং যোদ্ধাদের পানি পান করাতেন। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন যুদ্ধে যেতেন তখন উম্মে সুলাইম (রা.) ও আনসার নারীদের সঙ্গে নিয়ে যেতেন; তারা পানি পান করাতেন এবং আহতদের চিকিৎসা করতেন। (সহিহ মুসলিম, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস-সিয়ার, হাদিস: ১৮১০)
নবীজির সাহাবি হজরত উম্মে আতিয়া (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহর (সা.) সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। আমি তাদের সরঞ্জামাদি দেখাশোনা করতাম, খাবার প্রস্তুত করতাম, আহতদের চিকিৎসা করতাম এবং অসুস্থদের সেবা করতাম। (সহিহ মুসলিম, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস-সিয়ার, হাদিস: ১৮১২)
হস্ত ও কারুশিল্পের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনেও অনেক নারী সাহাবি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। নবীজির (সা.) স্ত্রী উম্মুল মুমিনীন যয়নব বিনতে জাহাশ (রা.) হাতের কাজ করে উপার্জন করতেন এবং তা থেকে দান-সদকা করতেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বলেন, আমি দ্বীনের ক্ষেত্রে যয়নবের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো নারী দেখিনি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত খোদাভীরু, সত্যবাদী ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী। তিনি প্রচুর সদকা করতেন এবং সম্পদ উপার্জনের জন্য খুব পরিশ্রম করতেন; তারপর নিজের উপার্জন থেকে সদকা করতেন এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতেন। (সহিহ মুসলিম, কিতাবু ফাযায়েলিস সাহাবা, বাবু ফাযায়েলি যায়নাব বিনতে জাহশ (রা.), হাদিস: ২৪৪২)
এ ছাড়া কৃষি ও কায়িক শ্রমেও নারী সাহাবিদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, আমার খালা তালাকপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তিনি তার খেজুর বাগানের ফল সংগ্রহ করতে চেয়েছিলেন। এক ব্যক্তি তাকে বাইরে যেতে নিষেধ করলে তিনি নবীজির (সা.) কাছে আসেন। নবীজি (সা.) বলেন, যান, আপনার বাগানের ফল সংগ্রহ করুন; এর মাধ্যমে হয়ত আপনি সদকা করবেন অথবা কোনো ভালো কাজ করবেন। (সহিহ মুসলিম, কিতাবুত তালাক, হাদিস: ১৪৮৩)
শিক্ষা ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রেও নারী সাহাবিদের অবদান অনস্বীকার্য। শিফা বিনতে আবদুল্লাহ (রা.) লিখতে-পড়তে শিক্ষা দিতেন এবং উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) ও উম্মে সালামা (রা.) হাদিস বর্ণনা ও ফতোয়ার মাধ্যমে দ্বীনি জ্ঞানের প্রচার-প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সিএ/এমআর


