ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমির মধ্যে ছুটির দিন অনেকের কাছেই স্বস্তির সময় হয়ে আসে। তবে বাস্তবে দেখা যায়, সেই কাঙ্ক্ষিত দিনটি অনেক সময় কেটে যায় এলোমেলো ঘুম, দীর্ঘ সময় মোবাইল স্ক্রল আর হালকা অলসতার মধ্য দিয়ে। অথচ সামান্য পরিকল্পনা আর সচেতনতা থাকলে ছুটির দিন হতে পারে নিজেকে নতুন করে রিচার্জ করার, দক্ষতা বাড়ানোর এবং মানসিক প্রশান্তি ফিরে পাওয়ার সুযোগ। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত জীবনযাপনবিষয়ক এক প্রতিবেদনে এমনই নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছুটির দিন মানেই খুব দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা—এই ধারণা বদলানো জরুরি। খুব ভোরে না হলেও স্বাভাবিক সময়ের কাছাকাছি উঠলে দিনটি তুলনামূলক দীর্ঘ ও কার্যকর মনে হয়। সকালে কিছুটা সময় হাঁটা, হালকা ব্যায়াম কিংবা বারান্দায় বসে এক কাপ চা পুরো দিনের জন্য মনকে ফুরফুরে রাখতে সাহায্য করে।
ছুটির দিনেও কড়াকড়ি রুটিনের প্রয়োজন নেই, তবে একটি হালকা পরিকল্পনা সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে। দিনের শুরুতেই ঠিক করে নেওয়া যেতে পারে—আজ কী কী করা হবে, কার সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন এবং নিজের জন্য কী করা দরকার। তিন থেকে পাঁচটির বেশি কাজ না রাখলে চাপ ছাড়াই দিনটি উপভোগ করা সম্ভব।
সপ্তাহজুড়ে জমে থাকা ছোটখাটো ব্যক্তিগত কাজ ছুটির দিনেই সেরে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বই বা কাগজপত্র গোছানো, আলমারি পরিষ্কার, পুরনো ফাইল সাজানো কিংবা প্রয়োজনীয় ফোনকল শেষ করলে মানসিক হালকাভাব আসে। ঘর গুছোনোর সঙ্গে সঙ্গে মনও কিছুটা গুছিয়ে যায় বলে মনে করেন অনেকেই।
ছুটির দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিজের শখকে সময় দেওয়া। বই পড়া, গান শোনা বা লেখা, সিনেমা দেখা, ছবি আঁকা কিংবা নতুন কোনো রান্নার রেসিপি চেষ্টা করা—এসব কাজ মানসিক চাপ কমায় এবং সৃজনশীলতাকে উজ্জীবিত করে।
পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক রক্ষায় ছুটির দিন বিশেষ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিনের ব্যস্ততায় যেসব মানুষের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা হয় না, তাদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ এনে দেয় এই দিন। একসঙ্গে খাওয়া, গল্প করা, ছোট আড্ডা কিংবা ফোনে হলেও দূরের মানুষের খোঁজ নেওয়া সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।
ডিজিটাল ডিটক্সের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়া বা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে ছুটির দিনের শেষে ক্লান্তি বেড়ে যেতে পারে। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মোবাইল ও ল্যাপটপ দূরে রেখে বাস্তব জীবনের মানুষের সঙ্গে সময় কাটালে মানসিক প্রশান্তি বাড়ে।
ছুটির দিনে নতুন কিছু শেখার সুযোগও রয়েছে। অল্প সময়ের একটি অনলাইন লেসন, নতুন ভাষার কয়েকটি শব্দ শেখা, নতুন সফটওয়্যার বা টুল ব্যবহার শেখা কিংবা সৃজনশীল লেখার অনুশীলন—এসবই ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক।
নিজের শরীর ও মনের যত্ন নেওয়াও ছুটির দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভালো খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান, কিছুটা বিশ্রাম, প্রার্থনা বা মেডিটেশন মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্রাম নেওয়াও একটি প্রয়োজনীয় কাজ।
দিনের শেষভাগে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে নিজের দিনটি নিয়ে ভাবার অভ্যাস ছুটির দিনকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে। আজ কী করা হলো, কোন বিষয়গুলো ভালো লেগেছে এবং কী করলে আরও ভালো হতো—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পরবর্তী ছুটির দিন পরিকল্পনায় সহায়তা করে।
সিএ/এমআর


