আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত ও পোস্টাল ভোট প্রক্রিয়া সহজ করতে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহ ও ভোট প্রদান সংক্রান্ত জটিলতা, ভোগান্তি এবং সমাধানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজ দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় সভাটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে বিভিন্ন পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, ক্রীড়া সংগঠকসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, বিশ্বের ১২১টি দেশে অবস্থানরত মোট ৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৮ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে ইতোমধ্যে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ—সৌদি আরব, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনে নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৬০ হাজারের বেশি, যা মোট প্রবাসী ভোটারের একটি বড় অংশ।
নিবন্ধনকৃত প্রবাসী ভোটাররা গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৫টা থেকে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে ভোট প্রদান শুরু করেছেন। ভোট দেওয়ার পর হলুদ খামে সংরক্ষিত ব্যালট আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে নিকটস্থ পোস্ট অফিস বা ডাকবাক্সে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহ ও ভোট প্রদান প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। এ সময় কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন উপস্থিত প্রবাসীদের কাছে পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন কি না, তা জানতে চান। প্রবাসীরা পোস্ট অফিস থেকে ব্যালট সংগ্রহে নানা ভোগান্তি ও জটিলতার কথা তুলে ধরেন এবং এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
রাষ্ট্রদূত প্রবাসীদের আশ্বস্ত করে জানান, পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত সব ধরনের সমস্যা দ্রুত নিরসনে দূতাবাস প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তিনি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন এবং প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। কেউ যদি ভোটের গোপনীয়তা ভঙ্গ বা ভোটে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, সে ক্ষেত্রে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
কুয়েত থেকে মোট ৩৫ হাজার ৩৮৬ জন প্রবাসী ভোটার হিসেবে আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ২৬২ জনের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে, যার মধ্যে ৫২৪ জন নারী ভোটার রয়েছেন। প্রবাসীদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কুয়েতে বিভিন্ন সংগঠনের সক্রিয় ভূমিকা ও সহযোগিতাকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা।
সিএ/এসএ


