বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে একটি মাদরাসার শ্রেণিকক্ষ ভাড়া নিয়ে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে সাংবাদিকরা সরেজমিনে গিয়ে দেখেন, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ধূলিয়া মধ্যেরচর ইবতেদায়ী মাদরাসার নুরানী শিশু বিভাগের একটি কক্ষ দলীয় কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাটির ভেতর ধূলিয়া মধ্যেরচর মোহাম্মদিয়া কাদেরিয়া কওমি শাখাও রয়েছে।
মাদরাসার প্রধান (মুহতামিম) মুফতি আতিকুর রহমান বলেন, কর্তৃপক্ষ একটি পরিত্যক্ত কক্ষ ভাড়া দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ভাড়া হিসেবে দুই হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং চলমান উন্নয়ন কাজে ২০ বস্তা সিমেন্ট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মেহেন্দিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সভাপতি হুমায়ুন কবীর জানান, নির্বাচনের জন্য তারা কক্ষটি ব্যবহার করছেন। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কক্ষ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা যায় কিনা, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি।
মাদরাসার কোষাধক্ষ ডা. আবদুর রশিদ বলেন, কক্ষটি ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি মনে করেন, এতে শিশুদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। মাদরাসার শুভাকাঙ্ক্ষী আ. রহমান জানান, তিনি শুনেছেন ভাড়া হিসেবে দুই হাজার টাকা এবং ২০ বস্তা সিমেন্টের শর্তে কক্ষটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
মাদরাসার সভাপতি মহিউদ্দিন ফকির বলেন, নির্বাচনের কয়েকদিনের জন্য কক্ষটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের পর তা ছেড়ে দেওয়া হবে।
বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজল) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবদুল জব্বার মুঠোফোনে জানান, তিনি মিটিংয়ে থাকায় মন্তব্য করতে পারছেন না।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিয়াজুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচনী কার্যালয়ের আওতামুক্ত। তার পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কক্ষ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিএ/এএ


