অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ দেশের প্রযুক্তিখাতের উন্নয়নে এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে জাতীয় ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ১৯টি নতুন ক্লাউড সেবা চালু করেছে।
ন্যাশনাল ডেটা সেন্টার (এনডিসি)-এর ক্লাউড ফ্যাসিলিটির আওতাধীন ভৌত অবকাঠামো, স্টোরেজ, মেমোরি ও প্রসেসিং পাওয়ার, সিকিউরিটি এবং মনিটরিং—এই পাঁচটি মূল কম্পোনেন্টের সক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নতুন কার্যক্রমের ফলে জাতীয় ডেটা সেন্টারের ক্লাউড অবকাঠামোর প্রসেসিং সক্ষমতা প্রায় ৪০ হাজার ভার্চুয়াল কোর এবং মেমোরি সক্ষমতা ১৭০ টেরাবাইটে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৪০ পেটাফ্লপ এআই সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইতোমধ্যে বাংলা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) উন্নয়নের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ডেটা স্টোরেজ সক্ষমতা প্রায় ৮ পেটাবাইট সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সুরক্ষায় ফিজিক্যাল আইসোলেশন সুবিধাসহ এন্টি-র্যানসমওয়্যার স্টোরেজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ছোট ও মাঝারি আকারের এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য এনভিডিয়া ভোল্টা আর্কিটেকচার টেনসর কোর জিপিইউ ভিত্তিক ক্লাউড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্মও স্থাপন করা হয়েছে। সরকারের ছয় শতাধিক সংস্থার ই-মেইল সিস্টেম এবং ক্লাউড স্টোরেজ হোস্টিং সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ‘নিউটানিক্স প্রাইভেট ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ স্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক জিপিইউ সেবাযুক্ত এই অবকাঠামোর মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের এআই ওয়ার্কলোড পরিচালনার পাশাপাশি জেনারেটিভ এআই এবং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ভিত্তিক উদ্ভাবনী সেবা চালু করা সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে সরকারি ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশনগুলোর আধুনিকায়ন এবং সফটওয়্যার জীবনচক্র ব্যবস্থায় ডেভওপস ও ডেভসেকওপস প্রযুক্তির ব্যবহারেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ডিজাস্টার রিকভারি ডেটা সেন্টারের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে একটি তিনতলা বিশিষ্ট টায়ার-৩ সার্টিফায়েড পূর্ণাঙ্গ ডিজাস্টার রিকভারি ডেটা সেন্টার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। নতুন এই সেন্টারে উচ্চ বিদ্যুৎ সক্ষমতাসম্পন্ন দুই শতাধিক আইটি কেবিনেট ও রেক স্থাপনের ব্যবস্থা থাকছে, যেখানে সাধারণ কম্পিউটিংয়ের পাশাপাশি এআই ওয়ার্কলোডও হোস্ট করা যাবে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে জাতীয় ডেটা সেন্টারে প্রথমবারের মতো সরকারি ক্লাউড সেবা চালু হলেও তখন মাত্র ১১টি ক্যাটাগরিতে সেবা পাওয়া যেত। ধারাবাহিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ অগ্রাধিকারমূলক খাত বিবেচনায় বর্তমানে সেবার পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিএ/এসএ


