বিজ্ঞান কি শুধু পরীক্ষার খাতায় আটকে থাকা সূত্র আর নিরেট তত্ত্বের বিষয়? এমন একঘেয়ে ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তরুণরা প্রতিদিন ভাবছেন বিজ্ঞানের ভাষা।
তাঁদের বিশ্বাস, বিজ্ঞান কোনো ভয় নয়, বিজ্ঞান আনন্দ; এবং এটি সীমিত কোনো শ্রেণিকক্ষে আটকে থাকা বিষয় নয়, সকলের জন্য। সেই ভাবনা থেকে জন্ম নিয়েছে তরুণদের বিজ্ঞানচর্চার প্ল্যাটফর্ম ‘আনন্দময় বিজ্ঞান জগত (এবিজে)’। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা বিজ্ঞানকে বইয়ের পাতা থেকে তুলে এনে মানুষের হাতে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। সম্প্রতি এই অভিযাত্রার অংশ হিসেবে এবিজের বিজ্ঞান কাফেলা পৌঁছেছে রাঙামাটির দুর্গম জনপদ বিলাইছড়িতে।
দুর্গম পাহাড়ে বিজ্ঞানের আলো
বিলাইছড়ি উপজেলা পৌঁছাতে একমাত্র ভরসা নৌকা; সড়কপথের কোনো ব্যবস্থা নেই। দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা এই অঞ্চলের মেধাবী শিশুদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে না দেওয়ার তাগিদে এবিজে আয়োজন করেছে বিশেষ এক বিজ্ঞান উৎসব। বিলাইছড়ি হাইস্কুলে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তব্য দেন সংগঠনের সদস্য ইমাম মেহেদী আশফি, ওয়াকিল আহমেদ ও আহনাফ আদিব। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুশফিকুর রহমান। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশ নেন রাহাত আল-আমিন, জুবায়ের হাসান শেখ সাহাদ ও হাসনাত আবদুল্লাহ।
টেলিস্কোপে আকাশ দেখা
বিলাইছড়ির শিশুদের সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল টেলিস্কোপ। এবিজের অ্যাস্ট্রোনমি ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ প্রথমবারের মতো খুব কাছ থেকে আকাশ পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেল। নক্ষত্রপুঞ্জ এবং গ্রহের অবস্থান দেখে উৎসুক শিশুদের চোখের ঝিলিকই ছিল এই আয়োজনের সবচেয়ে সার্থক মুহূর্ত।
কেন এই আয়োজন
সংগঠনটির সদস্যরা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন এক জায়গায় পৌঁছানো, যেখানে সুযোগ সহজে উপস্থিত হয় না। বিলাইছড়ির প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের শিখিয়েছে, বিজ্ঞান কোনো এলিট ধারণা নয়; এটি মানুষের মজ্জাগত কৌতূহল। মানুষের ভালোবাসা ও শেখার আগ্রহ আমাদের নতুন করে পথচলার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।”
পাহাড় থেকে সমতলে এবিজের যাত্রা
মুন্সিগঞ্জ জেলাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা সংগঠনটি নিয়মিত সেমিনার, ওয়ার্কশপ এবং অনলাইন প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে। কঠিন বিষয়কে সহজে উপস্থাপন করাই তাদের মূল শক্তি। বিজ্ঞান তখনই সত্যিকারের শক্তি হয়ে ওঠে, যখন তা ভাষার সীমা পেরিয়ে, দূরত্বের বাধা ভেঙে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে নাড়া দেয়। আনন্দময় বিজ্ঞান জগৎ ঠিক সেই কাজ করছে; পাহাড় থেকে সমতলে আনন্দের ছলে বিজ্ঞানের সুর ছড়িয়ে দিচ্ছে।
সিএ/এসএ


