একই ছাদের নিচে থাকা, একই সংসার সামলানো সবই আছে। তবু দিনের শেষে মনে হয়, দুজন যেন আলাদা দুটি জগতে বাস করছে। কথা হয় প্রয়োজনের, ছোঁয়া থাকে অভ্যাসের, কিন্তু হৃদয়ের সংযোগ কোথায় যেন হারিয়ে যায়। এই অনুভূতি অনেক দম্পতির মধ্যেই ধীরে ধীরে তৈরি হয়, অথচ বেশিরভাগ সময় তারা বুঝতেই পারেন না সম্পর্কের ভেতরের এই নীরব পরিবর্তন।
লাইসেন্সপ্রাপ্ত ক্লিনিক্যাল কাউন্সিলর কারমেল ডি. ব্রাউনের মতে, দাম্পত্য জীবনে শারীরিক, মানসিক ও আবেগী সংযোগে নিয়মিত অবহেলা থেকেই দূরত্বের শুরু। হাত ধরা কমে যাওয়া, আলিঙ্গনের অভাব, দিনের শেষে সঙ্গীর খোঁজ না নেওয়ার মতো ছোট বিষয়গুলো জমতে জমতে একসময় বড় শূন্যতা তৈরি করে। তখন কাছাকাছি থাকাটাই অনেকের কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়।
তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে। যেমন দীর্ঘদিন শরীরের যত্ন না নিলে হঠাৎ ওজন কমানো কঠিন হয়ে পড়ে, ঠিক তেমনই সম্পর্কের যত্ন না নিলে পরে হঠাৎ ঘনিষ্ঠ হওয়াও কঠিন হয়ে যায়। তাই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর জোড়া লাগানোর চেয়ে, ভাঙতেই না দেওয়া বেশি বুদ্ধিমানের কাজ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূরত্ব বাড়লে অনেক দম্পতির জীবন এমন অবস্থায় পৌঁছায়, যেখানে একই বাড়িতে থেকেও একা লাগতে শুরু করে। পাশে মানুষ থাকলেও ভালোবাসার উষ্ণতা কমে যায়। এখান থেকেই পরকীয়া বা বিচ্ছেদের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অনেকেই বুঝতে পারেন না, শুধু দৈনন্দিন কাজের কথা বললেই আবেগী সংযোগ তৈরি হয় না।
সমাধান হিসেবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের ছোট ছোট উদ্যোগই দূরত্ব কমাতে পারে। যেমন,
প্রতিদিন অন্তত একবার প্রয়োজনের বাইরে কথা বলা,
কাজের ফাঁকে একটি মিষ্টি বার্তা পাঠানো,
ভালোবাসার কথা প্রকাশ করা,
হঠাৎ কাঁধে হাত রাখা বা আলতো করে জড়িয়ে ধরা,
ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম ভাঙার সময় কাছাকাছি থাকা,
ব্যস্ততার মাঝেও সঙ্গীকে অগ্রাধিকার দেওয়া,
কারণ ছাড়াই ছোট উপহার দেওয়া,
নিয়মিত একসঙ্গে বাইরে সময় কাটানো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্য সম্পর্ক একদিনে ভেঙে যায় না, আবার একদিনেই জোড়াও লাগে না। প্রতিদিনের যত্ন, মনোযোগ ও আন্তরিকতাই সম্পর্কের দূরত্ব কমাতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
সিএ/এমআর


