পরিপাটি ও স্বস্তিদায়ক বাসা শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, মানসিক প্রশান্তির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। কিন্তু অজান্তেই ঘরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জিনিস জমে গেলে দৈনন্দিন জীবন হয়ে ওঠে জটিল ও অস্বস্তিকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত জিনিস আমাদের সময়, মনোযোগ ও শক্তির ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করে। কিছু লক্ষণ দেখেই বোঝা যায় ঘরে অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
প্রথম লক্ষণ হলো প্রয়োজনীয় জিনিস থাকা সত্ত্বেও তা খুঁজে না পাওয়া। পুরোনো বই, জুতা বা দরকারি কাগজপত্র খুঁজতে গিয়ে সময় নষ্ট হলে বুঝতে হবে ঘর অতিরিক্ত জিনিসে ভরে গেছে। এমন ক্ষেত্রে পুরোনো ও অচল জিনিস ছাঁটাই করা জরুরি।
দ্বিতীয় লক্ষণ, ঘর পরিষ্কার করতে অস্বাভাবিক বেশি সময় লাগা। পরিষ্কার করতে গিয়ে যদি অধিকাংশ সময় জিনিস সরাতেই চলে যায়, তবে তা ইঙ্গিত দেয় বাড়তি জিনিস জমে গেছে।
তৃতীয়ত, ঘরের কিছু অংশ সব সময় এড়িয়ে চলা। স্টোররুম, অতিথিকক্ষ বা কোনো আলমারি যদি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে, তবে সেখানে অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমার সম্ভাবনা বেশি।
চতুর্থ লক্ষণ হলো বারবার গুছিয়েও বিশৃঙ্খলা ফিরে আসা। ঝুড়ি বা বাক্স ব্যবহার করেও যদি অল্প সময়েই আবার এলোমেলো হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে সমস্যা জিনিসের আধিক্যে।
পঞ্চম লক্ষণ, টেবিল বা ওয়ার্ডরোবের ওপর স্থায়ীভাবে জিনিস জমে থাকা। প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস রাখা যেতে পারে, তবে অতিরিক্ত হলে ঘরের সৌন্দর্য ও স্বস্তি নষ্ট হয়।
ষষ্ঠ লক্ষণ হলো নিজের ঘরেই অস্বস্তি বা চাপ অনুভব করা। যেখানে স্বস্তি পাওয়ার কথা, সেখানে চাপ লাগলে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরানো জরুরি।
সপ্তম লক্ষণ, নতুন স্টোরেজ কেনার প্রবণতা। অধিকাংশ সময় সমস্যা স্টোরেজের অভাবে নয়, বরং অতিরিক্ত জিনিস জমে যাওয়ার কারণে তৈরি হয়।
অষ্টম লক্ষণ, ‘একদিন কাজে লাগবে’ ভেবে জিনিস জমিয়ে রাখা। ভাঙা, অচল বা বহুদিন ব্যবহার না করা জিনিস সচেতনভাবে বাদ দেওয়া উচিত। এতে ঘর যেমন পরিপাটি থাকে, তেমনি মানসিক প্রশান্তিও বাড়ে।
সিএ/এমআর


