যুক্তরাজ্যে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং অনলাইন নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে ব্রিটিশ সরকার। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল ঘোষণা করেন, আগামী তিন মাসব্যাপী জনমত যাচাই প্রক্রিয়া চলবে। এর মধ্যে অভিভাবক, তরুণ সমাজ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি থেকে মতামত নেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত উদ্যোগের আওতায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ রয়েছে। প্রথমত, স্কুলগুলোতে ফোন ব্যবহার ডিফল্টভাবে বন্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা পরিদর্শক সংস্থা ‘অফস্টেড’-কে ক্ষমতা দেওয়া হবে যাতে তারা স্কুলে ফোন ব্যবহারের নীতিমালা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না তা তদারকি করতে পারে। তৃতীয়ত, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্মের এমন ফিচার বা অ্যালগরিদম সরাতে বাধ্য করা হতে পারে, যা শিশুদের আসক্তি বাড়িয়ে দেয়।
এই উদ্যোগের পক্ষে শক্তিশালী দাবিও উঠেছে। সম্প্রতি আত্মহত্যা করা ১৬ বছর বয়সী কিশোরী ব্রায়ানা ঘেরের মা এস্থার ঘের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে চিঠি লিখে বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়া শিশুদের বাস্তব জগতের সামাজিক সম্পর্ক কমিয়ে দিচ্ছে এবং ডিজিটাল গোলকধাঁধায় বন্দী করে ফেলছে। তিনি জানান, তাঁর কন্যা ব্রায়ানার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগের বাস্তব বন্ধুর পরও অনলাইনে তার জীবন সংকুচিত হয়েছিল।
সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ন্যাশনাল এডুকেশন ইউনিয়ন (এনইইউ) এবং বেশ কয়েকজন লেবার এমপি। তবে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক প্রক্রিয়াটিকে সময়ক্ষেপণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অনেক বিশেষজ্ঞ ও শিশু অধিকার সংস্থা এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যামি ওরবেন বলেছেন, বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা প্রমাণিত নয়। এনএসপিসিসি সহ ৪২টি সংস্থা এক যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করে জানিয়েছে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিশুদের নিরাপত্তার পরিবর্তে তাদের আরও অনিরাপদ ইন্টারনেটের কোণগুলোতে ঠেলে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে শিশু-কিশোরদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের আইন কার্যকর করে। অস্ট্রেলিয়ায় নতুন আইন কার্যকর হওয়ার প্রথম কয়েক দিনে মেটা প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার অ্যাকাউন্ট ব্লক বা বন্ধ করেছে। যুক্তরাজ্যও অস্ট্রেলিয়ার পথ অনুসরণ করে একই ধরনের আইন প্রণয়নের কথা ভাবছে।
সিএ/এসএ


