ঝুঁকি এড়াতে নতুন করে আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা। বিশ্বজুড়ে এ নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে গ্রোক টুলসকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর অ্যাপ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইন সহিংসতার শিকারদের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৬৪ শতাংশ নারী। চলতি বছরে এ হার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধের মাত্রা প্রায় ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিহিংসাবশত ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া, ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে হয়রানি এবং প্রতারণা—এসব অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিনিময় করা ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য অনেক সময় পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল বা প্রতারণার হাতিয়ার হয়ে ওঠে। এসব কনটেন্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে ভুক্তভোগীদের মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে। ফলে শুধু নারী নয়, সব শ্রেণির ব্যবহারকারীর জন্য নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন অ্যাপ নতুন ফিচার যুক্ত করছে। টাইম মেশিন ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী যেকোনো সময় চ্যাট হিস্ট্রি মুছে ফেলতে পারবেন। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরিচিত বা অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিদের ব্লক করে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার সুযোগ মিলবে। সিমকার্ড বাইন্ডিং ফিচারে একটি সিম ও একটি ডিভাইসে একটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভুয়া বা একাধিক অ্যাকাউন্টের ঝুঁকি কমে।
নিরাপত্তা আরও জোরদারে ইমো অ্যাপ চালু করেছে ব্লক স্ক্রিনশটস ফর কলস ফিচার। ভিডিও কলে কথা বলার সময় এই ফিচার সক্রিয় থাকলে স্ক্রিনশট নেওয়ার চেষ্টা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রিন বন্ধ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে কেউ ভয়েস মেসেজ রেকর্ড করার চেষ্টা করলে নোটিফিকেশন অ্যালার্ট দেওয়া হবে। এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় অতিরিক্ত সুরক্ষা মিলবে বলে দাবি অ্যাপ কর্তৃপক্ষের।
চলতি বছরে অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অ্যাপ ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। গোপনীয়তা রক্ষা ও সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলাই এখন ব্যবহারকারীদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
সিএ/এমআর


