নারীর সৌন্দর্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নখ। হাতের আঙুলের ডগায় নখের নিখুঁত রঙ বা সূক্ষ্ম কারুকাজ কেবল সাজগোজ নয়; এটি একজন নারীর আত্মবিশ্বাস এবং ব্যক্তিত্বের শৈল্পিক প্রকাশ। এ শৈল্পিক জাদুর একজন উদাহরণ হলেন বেকি হলিস। মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি প্রমাণ করেছেন, সদিচ্ছা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে সাধারণ একটি শখও বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
বেকির যাত্রা শুরু হয় ১৭ বছর বয়সে, যখন তিনি খরচ বাঁচাতে নিজেই নিজের নখ সাজানো শুরু করেন। তখন কে জানত, নিজের শোয়ার ঘরে করা শৌখিন কাজ একদিন তাঁকে কয়েক কোটি টাকার মালিক করে তুলবে। ২০২০ সালের করোনা মহামারি সময়ে বেকি থেমে থাকেননি। নখের কাজের সুযোগ না থাকায় শিক্ষকতা ও প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি শুরু করেন। বিধিনিষেধ শেষে মায়ের ঘরের এক কোণ থেকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়। এভাবে জন্ম নেয় ‘ব্লসম একাডেমি’, যা পরে শ্রুসবেরিতে পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণকেন্দ্রে পরিণত হয়।
বড় পরিসরে কাজ করতে গিয়ে বেকি লক্ষ্য করেন, বাজারে ভালো মানের নেল সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। নিজের শিক্ষার্থীদের কাজ আরও নিখুঁত করতে তিনি তৈরি করেন ব্র্যান্ড ‘মুজ’। এখানে পেশাদার নখ টেকনিশিয়ানদের জন্য উচ্চমানের এবং সাশ্রয়ী সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়।
যাত্রার শুরুতে মাসে অর্ডার আসত মাত্র ৫০টি, আর আজ তা হাজারের ওপর। বেকির ব্র্যান্ড মুজ কেবল একটি নাম নয়, এটি নেল ইন্ডাস্ট্রিতে আস্থার প্রতীক। আমেরিকা থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তার তৈরি সরঞ্জাম পৌঁছে যাচ্ছে। একাডেমি ও ব্র্যান্ড মিলিয়ে বেকির ব্যবসা বছরে মিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে পথচলা সব সময় মসৃণ ছিল না। বিভিন্ন বিজনেস নেটওয়ার্কিং মিটিংয়ে পুরুষ ব্যবসায়ীরা প্রাথমিকভাবে তাকে অবজ্ঞা করতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে বেকি প্রমাণ করেছেন, নখের কাজও সফল ব্যবসার সুযোগ। তিনি মনে করেন, আজ যে নারীরা বিউটি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন, তারা সকলেই অনুপ্রেরণা—নিজেদের আয় তৈরি করছেন, পরিবার সামলাচ্ছেন এবং সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
বেকির মতে, ব্যবসার পথ কখনো সোজা হয় না। ভাল সময় সহজ, কিন্তু প্রকৃত পরীক্ষা আসে মন্দার মধ্যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়। তার স্বপ্ন এখন পুরো ইউরোপ ও আমেরিকাজুড়ে মুজকে ছড়িয়ে দেওয়া। হাতের নখের ছোট ক্যানভাসে রঙের ছোঁয়ায় বিশ্ব জয় সম্ভব—বেকি হলিস তার উজ্জ্বল উদাহরণ।
সিএ/এসএ


