ইসলামে অজু নামাজের পূর্বশর্ত। অজুর ক্ষেত্রে নির্ধারিত অঙ্গগুলো পরিপূর্ণভাবে ধোয়া ফরজ। এর মধ্যে রয়েছে চেহারা, কনুইসহ দুই হাত এবং টাখনুসহ দুই পা। এই অঙ্গগুলোর কোনো অংশ যদি শুকনো থেকে যায়, তাহলে অজু সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে না। ফলে সেই অজু দিয়ে আদায় করা নামাজও শুদ্ধ হবে না।
ফিকহের বিধান অনুযায়ী, কনুই, গোড়ালি, হাত ও পায়ের আঙুলের ফাঁকসহ যেসব স্থানে পানি না পৌঁছানোর আশঙ্কা থাকে, সেসব জায়গা বিশেষভাবে ভালো করে ধুতে হবে। চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে এমন কোনো বস্তু লেগে থাকলে সেটিও আগে সরিয়ে নিতে হবে। কনুইসহ ফরজ অঙ্গের কোনো অংশ শুকনো থাকলে অজু বাতিল হয়ে যাবে এবং সেই অজুতে নামাজ আদায় করলে তা পুনরায় পড়তে হবে।
নামাজের মধ্যে যদি কেউ লক্ষ্য করে যে তার অজুর কোনো অঙ্গ বা কোনো অংশ শুকনো রয়ে গেছে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে নামাজ ছেড়ে ওই অংশ ধুয়ে নিতে হবে। এরপর নতুন করে নামাজ আদায় করতে হবে। আর যদি নামাজ শেষ করার পর বিষয়টি বোঝা যায়, তবুও ওই নামাজ পুনরায় পড়া জরুরি হবে।
এই বিষয়ে হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তাও এসেছে। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, এক সফরে রাসুল (সা.) আমাদের পেছনে রয়ে গিয়েছিলেন। আমরা আসরের নামাজে দেরি করেছিলাম। তিনি এসে দেখলেন, আমরা তাড়াহুড়ার কারণে পা ভালোভাবে না ধুয়ে হালকাভাবে মাসেহের মতো করে নিচ্ছিলাম। তখন তিনি উচ্চস্বরে বললেন, সর্বনাশ শুকনো গোড়ালির লোকেরা জাহান্নামে যাবে, তোমরা পূর্ণরূপে অজু করো। (সহিহ মুসলিম)
আরেক হাদিসে লাকিত ইবনে সাবিরাহ (রা.) বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে অজু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, অজুর অঙ্গগুলো পরিপূর্ণভাবে ধুবে, আঙুলগুলোর মধ্যে খিলাল করবে এবং উত্তমরূপে নাকে পানি পৌঁছাবে, যদি রোজাদার না হও। (সুনানে আবু দাউদ)
তবে কেউ যদি অজু করার পর বুঝতে পারে যে কোনো অঙ্গ বা কোনো অংশ শুকনো রয়ে গেছে, তাহলে শুধু সেই অংশটুকু ধুয়ে নিলেই অজু সম্পন্ন হয়ে যাবে, নতুন করে পুরো অজু করার প্রয়োজন নেই। তবে ওই অজুতে যদি নামাজ আদায় করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই নামাজ পুনরায় পড়তে হবে। উবাইদ ইবনে উমাইর (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওমর (রা.) এক ব্যক্তিকে দেখলেন যার পায়ের একটি অংশ অজুতে শুকনো ছিল। তিনি তাকে ওই অংশ ধুয়ে পুনরায় নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা)
সিএ/এমআর


