অতিরিক্ত কম বা বেশি প্রস্রাব হওয়া দুটোই স্বাস্থ্যগত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকেই শৌচাগারে যাওয়া এড়িয়ে যান, যা দেহে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। সম্প্রতি এক চাকরিজীবী নারী ২৪ ঘণ্টায় মাত্র একবার প্রস্রাব করায় তলপেটে ব্যথা, জ্বালাপোড়া ও জ্বরের সমস্যায় ভুগেছেন। পরে জানা যায়, প্রস্রাবে সংক্রমণ হয়েছে। প্রস্রাব কম হওয়া বা চেপে রাখা দেহে বিষাক্ত বর্জ্য জমাতে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে’র রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “প্রস্রাবের সংখ্যা ও পরিমাণ দেহের স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।” প্রস্রাব দেহের কোষকে ঠিক রাখতে এবং ক্ষতিকর বর্জ্য বের করতে সাহায্য করে। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ককে দৈনিক অন্তত দুই লিটার পানি পান করা উচিত। কায়িক শ্রম, অতিরিক্ত ঘাম বা গরম আবহাওয়ায় এর পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তৃষ্ণা পেলে অবশ্যই পানি পান করতে হবে।
প্রস্রাবের রংও পানি চাহিদার সূচক। স্বাভাবিক রং হালকা খড়ের মতো। গাঢ় হলে বা পরিমাণ কম হলে পানি বাড়াতে হবে। সাধারণভাবে ২৪ ঘণ্টায় অন্তত চারবার প্রস্রাব হওয়া প্রয়োজন। এর কম হলে পানিশূন্যতা, কিডনি রোগ, মূত্রনালির পাথর, নিম্ন রক্তচাপ বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।
ডা. নয়ন বলেন, “পাতলা পায়খানার মতো সাধারণ সমস্যা থেকেও রক্তচাপ কমে প্রস্রাব হ্রাস পেতে পারে, যা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।” অন্যদিকে, দিনে আটবারের বেশি প্রস্রাব হলে সতর্ক হওয়া উচিত। চা, কফি, চকলেট বা মিষ্টি পানীয় কমানো ভালো, কারণ এগুলো মূত্রবর্ধক। বারবার অল্প পরিমাণে প্রস্রাব হলে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে, বিশেষ করে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা থাকলে।
বয়স্ক পুরুষদের প্রোস্টেট বৃদ্ধি, গর্ভবতী নারীদের জরায়ুর চাপেও প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়তে পারে, যা স্বাভাবিক যদি অন্য উপসর্গ না থাকে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা বা রক্তে ক্যালসিয়াম বৃদ্ধি হলে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণে সমাধান না হলে বা অন্য লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডা. নয়ন পরামর্শ দেন, “প্রস্রাব চেপে রাখবেন না। নিয়মিত পানি পান করুন, প্রস্রাবের রং ও সংখ্যা লক্ষ্য করুন। স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে অনেক সমস্যা এড়িয়ে চলা সম্ভব।”
সিএ/এমআর


