বর্তমানে দাঁতের সমস্যা, যেমন সেন্সিটিভিটি, এনামেলের ক্ষয় বা দাঁত ও মাড়ি দুর্বল হয়ে যাওয়া সাধারণ হয়ে উঠেছে। আগে এসব সমস্যা মূলত বয়সের সঙ্গে বৃদ্ধি পেত, এখন তা তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও দেখা যায়। মুখের স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলার পাশাপাশি কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস দাঁতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। চলুন জেনে নিই সেই পাঁচটি অভ্যাস—
ভুল পদ্ধতিতে দাঁত মাজা
অনেকে মনে করেন দাঁত জোরে মাজলে ভালো পরিষ্কার হয়। কিন্তু বাস্তবে এমন ব্রাশ করলে দাঁতের এনামেল ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়। দাঁতের এনামেল স্তর একবার নষ্ট হলে পুনরায় তৈরি হয় না। জোরে দাঁত মাজা বা প্রতিদিন মাংসের হাড় চিবানো এনামেলকে ক্ষতিগ্রস্থ করে, ফলে ঠাণ্ডা বা গরম খাবার খেতেই শিরশিরানি অনুভব হয়। নরম ব্রিসেলের টুথব্রাশ ব্যবহার করাই ভালো।
অতিরিক্ত এসিড ও চিনি যুক্ত খাদ্য গ্রহণ
সোডা, এনার্জি ড্রিংক, লেবুর রস, ফলের রস, চা–কফি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার অতিরিক্ত খেলে দাঁতের এনামেল দুর্বল হয়। এই ধরনের খাদ্য মুখে এসিডিক পরিবেশ তৈরি করে, যা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে এবং এনামেল ধীরে ধীরে ক্ষয় করে। এমন পানীয় খাওয়ার পর মুখ ধুয়ে নেওয়া বা স্ট্র ব্যবহার করা ভালো।
পর্যাপ্ত পানি পান না করা
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান না করলে লালা উৎপাদন কমে যায়। লালা মুখের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে, এসিড কমায় ও এনামেলকে শক্তিশালী রাখে। ডিহাইড্রেশনের ফলে মুখে এসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়, এনামেল দুর্বল হয়। তাই দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।
ঘরোয়া হোয়াইটনিং ট্রিকস
সাদা দাঁতের জন্য অনেকেই বাড়িতে লেবু, বেকিং সোডা বা অ্যাক্টিভেটেড চারকোল ব্যবহার করেন। যদিও দাঁত সাময়িকভাবে উজ্জ্বল মনে হয়, এসব অ্যাব্রেসিভ বা এসিডিক। ফলে এনামেল দ্রুত ক্ষয় হয় এবং দাঁত আরও সংবেদনশীল হয়। হালকা ফ্লুরাইডযুক্ত পেস্ট বা পেশাদার হোয়াইটনিং চিকিৎসার পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
সাধারণ টুথপেস্ট যথেষ্ট নয়
অনেক টুথপেস্ট শুধু মুখের দুর্গন্ধ দূর করা বা দাঁতের সাদা ভাব বজায় রাখার কথা বলে। তবে দাঁতের এনামেল রক্ষার কথা এগুলো বিবেচনা করে না। তাই সাধারণ টুথপেস্টের পরিবর্তে এনামেল-প্রোটেকটিং টুথপেস্ট ব্যবহার করা উচিত।
সিএ/জেএইচ


