জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন। জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত সমঝোতা ও জোটনীতির সঙ্গে নীতিগত দ্বিমত পোষণ করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মুশফিক উস সালেহীন এনসিপির মিডিয়া সেলের সম্পাদক ছাড়াও যুগ্ম সদস্যসচিব, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ উইংয়ের কো-লিড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে অনলাইনের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র জমা দেন। দলীয় সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগের দিন এনসিপির প্রায় ৩০ জন নেতা আহ্বায়কের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন, যেখানে এই সমঝোতা থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়। ওই স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় মুশফিক উস সালেহীনের নাম ছিল প্রথমে।
মুশফিক উস সালেহীনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট ও সমঝোতাকে কেন্দ্র করে এনসিপির অন্তত ১০ জন কেন্দ্রীয় নেতা দল ছাড়লেন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর দেশের জনগণের মধ্যে একটি তারুণ্যনির্ভর, মধ্যপন্থী, ভবিষ্যৎমুখী এবং নতুন ধারার রাজনৈতিক শক্তির যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের আশায় তিনি ব্যক্তিগত ও পেশাগত ঝুঁকি নিয়ে এনসিপিতে যুক্ত হয়েছিলেন। দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার আকাঙ্ক্ষাও তার সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছিল।
তবে তার বিবেচনায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০–দলীয় জোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত এনসিপির ঘোষিত আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য থেকে দলকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। স্বল্পমেয়াদে ভোটের রাজনীতিতে কিছু সুবিধা পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে একটি মধ্যপন্থী, আত্মনির্ভরশীল ও বাংলাদেশপন্থী রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপির বিকাশের সম্ভাবনা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পদত্যাগপত্রে আরও বলা হয়, দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চার সীমাবদ্ধতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং নতুন জোটসঙ্গীদের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ প্রভাব গভীরভাবে বিবেচনা করে তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে এনসিপির রাজনৈতিক গতিপথ ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। তিনি এককভাবে অথবা সংস্কারকেন্দ্রিক রাজনীতি করা অন্যান্য দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি তৃতীয় জোট গঠনের পক্ষে ছিলেন এবং দলীয় সাধারণ সভা ও কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকে ধারাবাহিকভাবে সেই অবস্থান তুলে ধরেছিলেন।
এসব বাস্তবতা বিবেচনায় এনসিপির সব পদ ও দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন মুশফিক উস সালেহীন। একই সঙ্গে তিনি দলের ভিন্নমতাবলম্বী নেতাকর্মীদের অবস্থানের প্রতি সম্মান জানান বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন।
সিএ/টিআর


