শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি এসে পড়েছে ভারতের দৈনন্দিন ভোগ্যপণ্যের বাজারে, বিশেষ করে কনডম উৎপাদন খাতে। প্রায় ৮ হাজার ১৭০ কোটি রুপির এই শিল্প বর্তমানে গুরুতর সরবরাহ সংকটে পড়েছে। সমুদ্রপথে বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়া এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পেট্রোকেমিক্যাল ও লুব্রিকেন্ট সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এর ফলে বাজারে বড় ধরনের ঘাটতি এবং খুচরা পর্যায়ে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভারত বছরে ৪০০ কোটিরও বেশি কনডম উৎপাদন করে থাকে। এই খাতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এইচএলএল লাইফকেয়ার লিমিটেড, ম্যানকাইন্ড ফার্মা এবং কিউপিড লিমিটেডের মতো বড় উৎপাদনকারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মধ্যে শুধু এইচএলএল লাইফকেয়ারই বছরে প্রায় ২২১ কোটি কনডম উৎপাদন করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব প্রতিষ্ঠান সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কনডম উৎপাদনে সিলিকন অয়েল ও অ্যামোনিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত সিলিকন অয়েলের তীব্র সংকট ইতোমধ্যে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে কাঁচা ল্যাটেক্সকে স্থিতিশীল রাখতে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়ার দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্যাকেজিং উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিভিসি ফয়েল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলসহ বিভিন্ন প্যাকেজিং সামগ্রীর সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে এবং দামের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে উৎপাদন ও ক্রয়াদেশের সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা।
পরিবহন খাতেও একই ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে, যা সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি জানান, ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের কাছে এই পণ্য সহজলভ্য রাখতে সাধারণত ‘ব্যাপক বাজারজাত-স্বল্প মুনাফা’ মডেল অনুসরণ করা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ব্যবসায়িক কাঠামো চরম চাপে রয়েছে এবং উৎপাদন খরচ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে, দেশটির এক আন্তঃমন্ত্রণালয় ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, জ্বালানি ও বিদ্যুতের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ পেট্রোকেমিক্যাল ইউনিটগুলোর সম্পদ বরাদ্দ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে। এর ফলে কাঁচামালের সরবরাহ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সিএ/এএ


