মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারাহ জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহর সঙ্গে টেলিফোন আলাপের সময় তিনি এই আহ্বান জানান এবং চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ফোনালাপে ওয়াং ই বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যখন ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালায়, তখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলছিল। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কোনো অনুমোদন ছাড়াই এই হামলা চালানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই যুদ্ধ হওয়া উচিত ছিল না। এটি কারও স্বার্থরক্ষা করবে না। চীন সব সময় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে।’ তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বাড়ানোর পরিবর্তে সব পক্ষের সংযম দেখানো প্রয়োজন।
আলাপচারিতায় কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারাহ জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহ উপসাগরীয় অঞ্চলের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, কুয়েত এই সংঘাতের কোনো পক্ষ না হলেও যুদ্ধের প্রভাব দেশটিকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তিনি বলেন, ‘কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে তারা তাদের আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার ত্যাগ করবে না।’ একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চীনের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই জোর দিয়ে বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বেসামরিক নাগরিক এবং অসামরিক স্থাপনায় যেকোনো ধরনের হামলার নিন্দা জানান।
তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক চীনের বিশেষ দূত ইতোমধ্যে মধ্যস্থতার উদ্দেশ্যে ওই অঞ্চলের পথে রওনা হয়েছেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি কুয়েতসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখবেন।
সিএ/এসএ


